
জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান সুমন (৪১) হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তাতে এজাহারনামীয় ৬৮ আসামির ৫৭ জনকেই অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে।
মামলার দেড় বছর পর গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান খাঁন। তিনি অভিযোগপত্রে বলেছেন, মামলার এজাহারনামীয় ১১ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত ৪ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো। এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। আগামী ৮ মার্চ আদালতে এই অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
শেখ হাসিনা ছাড়া অভিযোগপত্রে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাছান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ ছাড়া অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, মানাম আহমেদ রাতুল, টাডি রাজু, মো. আবদুর রহমান রাসেল, মো. রায়হান, মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে রানা, সোহাগ ওরফে রানা ও আসাদুজ্জামান নূর ওরফে আসাদ নামে আটজনকে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত বিজয়ের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হামলার শিকার হয়ে ১১ দিন পর ১৬ আগস্ট হাসপাতালে মারা যান ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান সুমন। এর প্রায় দেড় মাস পর ৯ অক্টোবর তাঁর স্ত্রী বীথি খাতুন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। তাতে ৬৮ আসামির নাম উল্লেখ করে বলা হয়, শেখ হাসিনাসহ ১ থেকে ৮ নম্বর আসামির নির্দেশে ৯ থেকে ৬৮ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করে তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাফিজুর রহমান সুমন ও তাঁর ভাগনে আবদুর রহমানসহ অন্যরা শেখ হাসিনার পালানোর খবর পেয়ে আনন্দ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিলে হামলা চালান। এ সময় হাফিজুর রহমান সুমন ও তাঁর ভাগনে আবদুর রহিমের সঙ্গে আসামি আবদুর রহমান রাসেলের ধস্তাধস্তি হয়। তখন সোহাগসহ দুই আসামি রহিমের গলায় ফাঁস দিয়ে মারধর করেন। আবদুর রহিমের পিঠে চাকু দিয়ে আঘাত করেন সোহাগ। আসামি মানাম আহমেদ রাতুল, আবদুর রহমান রাসেল, আসাদ এবং লম্বু রানা চায়নিজ কুড়াল দিয়ে হাফিজুর রহমান সুমনের মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে আহত করে ড্রেনে ফেলে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন সুমন ও রহিমকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১৬ আগস্ট সুমন মারা যান।
অধিকাংশ আসামিকে বাদ দিয়ে পুলিশের অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাদী বীথি আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার তদন্তের সময় তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা ঘটনার বিষয়ে ওনাকে জানিয়েছিলাম। তবে অভিযোগপত্রের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’