
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে এবারও ঈদের জামাতের আয়োজন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ঈদের দিন সকাল ৮টায় এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে একসঙ্গে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশল বিভাগের সূত্রে, ঈদ জামাতের জন্য প্রধান প্যান্ডেলটি তৈরি করা হচ্ছে স্টিল ফ্রেমের তাঁবু দিয়ে। এর ভেতরে আট হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। স্টিলের তাঁবুর দুই পাশে বাঁশের প্যান্ডেল করা হচ্ছে। সেখানে আরও দুই হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। মূল তাঁবুর উত্তর পাশে ৫০০ নারীর নামাজের জায়গা সংরক্ষিত থাকবে। ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পুরো প্যান্ডেলে ত্রিপল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর বাইরে মূল তাঁবুর পেছনে (পূর্ব পাশে) খোলা মাঠেও নামাজের জন্য ত্রিপল বিছানোর ব্যবস্থা রাখছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। সেখানে আরও প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে পড়বেন। ওই জায়গায় ত্রিপল বিছাতে ৩০ জন কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। নামাজের জন্য মানুষের উপস্থিতি সাপেক্ষে ওই কর্মীরা ত্রিপল বিছানোর কাজ করবেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টিলের অবকাঠামোর ওপর মূল তাঁবু বসানোর কাজ শেষ। তাঁবুর সামনের অংশে মিম্বর তৈরির কাজ চলছে। মূল তাঁবুর দুই পাশে তৈরি করা হচ্ছে বাঁশের প্যান্ডেল। করপোরেশনের কর্মীরা মাঠে পানির গাড়ি দিয়ে পানি ছিটানো ও রোলার দিয়ে মাঠ সমান করার কাজ করছেন। অজুর জন্য পানির কল বসানো হয়েছে। এখন বালু ফেলে জায়গাটি উঁচু করা ও পানির নালা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটির সূত্রে, তাঁবুর দক্ষিণ পাশে পুরুষদের অজুর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যেখানে একসঙ্গে ৫০ জন অজু করতে পারবেন। আর উত্তর পাশে একসঙ্গে ১০ জন নারীর অজুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের দুটি ফটক থাকবে। মাঠের উত্তর পাশে মাঝামাঝি জায়গা দিয়ে ভিআইপিরা প্রবেশ করবেন। আর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের অংশ দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগ থাকবে। মাঠের পশ্চিম অংশ রাখা হয়েছে ভিআইপিদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মূল তাঁবুতে ২৫০টি সিলিং ফ্যান রাখা হচ্ছে। আর স্ট্যান্ড ফ্যান রাখা হচ্ছে আরও ১০০টি। ঈদ জামাতের জন্য ১৬ জোড়া সাউন্ড সেট থাকবে। এর পাশাপাশি মাইক থাকবে ৩২টি।
ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল–৫–এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, ঈদ জামাতের পুরো আয়োজনের পেছনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করছে। কাজটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইএফএ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি এ সময় বলেন, ঈদের জামাতে মুসল্লিদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় এবং নারী-পুরুষ সবাই যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার ঈদের দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে ধরে নিয়ে স্টিলের স্ট্রাকচার দিয়ে শেড তৈরি করা হয়েছে।
প্রশাসক আরও বলেন, ১০ হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও মুসল্লি হলে তাৎক্ষণিকভাবে যেন নামাজের ব্যবস্থা করা যায়, সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তায় প্রবেশপথে আর্চওয়ে থাকবে এবং নামাজিদের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। তিনি নগরবাসীকে এই ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করতে আসার আহ্বান জানান।