
রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনের সামনে এ মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ছাড়াও অভিভাবক, শিক্ষক এবং ছায়ানটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র জায়ীদ আবদুল্লাহ (১৫) শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেয়। সে বলে, ‘আমাদের সমবয়সী শিশু–কিশোরদের খুন, গুম, ধর্ষণসহ নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন দেখতে দেখতে আমরা সবাই বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে সাত [আট] বছরের শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া জঘন্য অপরাধটি আমরা মেনে নিতে পারছি না।’
শিশু নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানিয়ে জায়ীদ বলে, ‘মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় শৈশব। সেই শৈশব কারও থেকে যেন কেড়ে নেওয়া না হয়।’
মানববন্ধন থেকে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লেখা পোস্টার নিয়ে দাঁড়ায়। পোস্টারে ‘রাষ্ট্র আমার নিরাপত্তা কোথায়?’, ‘আমাদের জন্য এ কেমন পৃথিবী রেখে যাচ্ছ তোমরা বড়রা?’, ‘বাংলাদেশ ফুঁসে ওঠো!’, ‘ধর্ষক মনের মৃত্যু হোক’—এমন স্লোগান লেখা ছিল।
নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমনা বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজকের মানববন্ধনটি মূলত নালন্দার শিশুদেরই আয়োজন। অধিকাংশ পোস্টার ও স্লোগান তাদের লেখা। গানগুলোও শিশুদেরই প্রয়াস ছিল। আমরা বড়রা তাদের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছি।’
আমাদের দেশের শিশুরা সবচেয়ে অবহেলিত উল্লেখ করে সুমনা বলেন, ‘তারা অযত্নে বড় হয়। স্কুলে তাদের যত্ন সমানভাবে নিশ্চিত করা যায় না। কোনো স্কুলে ভালো সুবিধা আছে, কোথাও নেই। বাড়িতেও একই ব্যাপার। শিশুরা নানাভাবে অনিরাপদ।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সৈয়দ ফারহান (১৪) বলে, ‘কয়েক বছর ধরে দেখে আসছি, ধর্ষণের ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না দেশে। আইন...কোনো ব্যবস্থা নিতে চায় না। ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারছি না।’
মানবন্ধনে অংশ নেন অভিভাবক আফিয়া নূর। তাঁর মেয়ে নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘অনেকে পোশাকের কথা বলছেন। কিন্তু এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। সমাজের নৈতিক অবক্ষয় কোথায় পৌঁছেছে! মা হিসেবে আমি ভীষণ শঙ্কিত। ছেলে কিংবা মেয়েশিশুর ওপর যারা নির্যাতন করছে, আমি চাই তাদের দৃশ্যমান সাজা হোক।’
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা সমবেত সংগীত পরিবেশন করে। ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান’ গাওয়ার মধ্য দিয়ে মানবন্ধন শুরু হয়। এরপর একে একে একে গাওয়া হয় দশটি গান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মানববন্ধন শেষ হয়।
গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে এক শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার এজাহারে শিশুটির বাবা উল্লেখ করেন, তাঁর ধারণা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।