উড়ালসড়কের খুঁটি

রঙিন দেয়ালচিত্রে শিক্ষণীয় বার্তা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্র। গতকাল বিকেলে মগবাজারে
আশরাফুল আলম

রাজধানীর মালিবাগ-মগবাজার উড়ালসড়ক। মগবাজার চৌরাস্তা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি অংশে উড়ালসড়কের নিচের চারটি খুঁটির প্রথমটিতে চোখ আটকে যায়। তাতে রঙিন দেয়ালচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছোট্ট একটি ছেলের গাছের চারা রোপণ ও পানি দিয়ে পরিচর্যার দৃশ্য। আছে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা এবং দুই পাশে গাছ দিয়ে ঘেরা রাস্তায় স্কুলব্যাগ নিয়ে এক শিশুর হেঁটে যাওয়ার চিত্র।

পরের খুঁটিতে পাখি আর সবুজ পাতা, মাছের ছবি। তৃতীয় খুঁটিতে দুই পাশে দুটি সচেতনতার বার্তা লেখা, ‘হর্ন বাজাবেন না’ এবং ‘পোস্টার না লাগাই’। আর চতুর্থ খুঁটিতে দেয়ালচিত্র আঁকার কাজ চলছে।

দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে শিক্ষণীয় বার্তা দেওয়া হবে। যেমন হর্ন বাজাবেন না, পোস্টার না লাগাই, গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই, তিন দিনে এক দিন জমা পানি ফেলে দিন, আসুন দেশকে ভালোবাসি প্রভৃতি
আতিকুল ইসলাম, মেয়র, ডিএনসিসি

রাজধানীর উড়ালসড়কের খুঁটিতে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের পোস্টার দেখা যেত বিভিন্ন সময়। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে মেট্রোরেল উদ্বোধনের পরেই এর খুঁটিগুলোও ছেয়ে গিয়েছিল পোস্টারে। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এবার উড়ালসড়কের খুঁটি দৃষ্টিনন্দন করতে, তাতে রঙিন দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এসব দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে নানা ইতিবাচক বার্তাও। ইতিমধ্যে মালিবাগ-মগবাজার উড়ালসড়কের নিজেদের অংশে (মগবাজার চৌরাস্তা থেকে উত্তর দিকে) দেয়ালচিত্র আঁকা শুরু করেছে ডিএনসিসি।

গতকাল সোমবার সকালে যেখানে সেখানে পোস্টার লাগানো বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্র আঁকার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। বিকেলে সরেজমিনে রঙিন দেয়ালচিত্র দেখা যায়।

উড়ালসড়কের আরও আটটি খুঁটি (মগবাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত) থেকে লাগানো পোস্টার খুলে তাতে দেয়ালচিত্র আঁকার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে সাদা রং করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওই খুঁটিগুলোসহ সাতরাস্তার দিকে থাকা ২৯টি এবং এফডিসির দিকে থাকা ১৯টি খুঁটিতেও দেয়ালচিত্র আঁকা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির কর্মকর্তারা।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এমন দৃষ্টিনন্দন দেয়ালচিত্র যেখানে, সেখানে পোস্টার লাগানো বন্ধে জনগণকে সচেতন করবে। তিনি বলেন, ‘দেশটা, শহরটা আমাদের। রক্তের বিনিময়ে এই দেশ পেয়েছি। অথচ যত্রতত্র পোস্টার লাগিয়ে আমরা নিজেরাই এই শহরে দৃষ্টি দূষণ করছি। শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও শহরের দূষণ আমরাই করছি। এগুলো বন্ধে নিজেদের সচেতন হতে হবে।’

মেয়র বলেন, ‘উড়ালসড়কের পিলারে তাকালেই দেখি, যত্রতত্র পোস্টার লাগানো। অমুক ভাইয়ের সালাম নিন, তমুক ভাই এগিয়ে চলুন, ভাই আপনি নেতা হবেন, আমরা আপনার পেছনে আছি—এসব লেখা পোস্টার। যত ধরনের তেলবাজি—সব পোস্টারের মাধ্যমে করা হচ্ছে। নিচে লিখে রাখে, সৌজন্যে অমুক। এসব সৌজন্যে অমুকদের বলতে চাই—এসব বন্ধ করুন।

না হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। জেল হবে, জরিমানা হবে।’ মেয়র বলেন, ‘দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে শিক্ষণীয় বার্তা দেওয়া হবে। যেমন—হর্ন বাজাবেন না, পোস্টার না লাগাই, গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই, তিন দিনে এক দিন জমা পানি ফেলে দিন, আসুন, দেশকে ভালোবাসি প্রভৃতি।’

মেয়র আরও বলেন, রিকশা পেইন্টিংয়ে চিত্রশিল্পীদেরএই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। উড়ালসড়কের খুঁটির সৌন্দর্য রক্ষায় ক্লোজড সার্কিটক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) লাগানো হবে।