পয়োবর্জ্য জমে আছে গুলশান লেকের কালাচাঁদপুর এলাকায়। ২৬ জুলাই তোলা ছবি
পয়োবর্জ্য জমে আছে গুলশান লেকের কালাচাঁদপুর এলাকায়। ২৬ জুলাই তোলা ছবি

গুলশান-বনানী-বারিধারা

লেকপাড়ে সৌন্দর্য, পানিতে বর্জ্য: উন্নয়নের অসম্পূর্ণ এক গল্প

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-১-এর লেকপাড়ে এখন উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট। কোথাও বাঁধানো পাড়, কোথাও হাঁটার পথ, কোথাও বসার জায়গা। বিকেলে মানুষ হাঁটেন, কেউ কেউ লেকের ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। কিন্তু লেকের একটু কাছে গেলেই দেখা যায় অন্য চিত্র—কালচে পানি, ভাসমান প্লাস্টিক আর কোথাও কোথাও জমাট বাঁধা ময়লা। বাতাসে মাঝেমধ্যে ভেসে আসে দুর্গন্ধ। সাজানো লেকপাড়ের সঙ্গে পানির এই বৈসাদৃশ্য বৈপরীত্য দৃশ্যমান।

বনানী অংশেও একই চিত্র। পাড়ের উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু পানির রং ও দুর্গন্ধ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অস্বস্তি কাটেনি।

বনানীর বাসিন্দা মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আগে লেকপাড়ে হাঁটার মতো জায়গা কম ছিল, এখন কিছু অংশ ব্যবহারযোগ্য হয়েছে। কিন্তু পানির দুর্গন্ধ থাকলে মানুষ কতক্ষণ থাকবে?

তাঁর ভাষায়, ‘লেকের পাশে ইট-পাথরের কাজ হয়েছে, কিন্তু লেকের পানিটাই যদি নোংরা থাকে, তাহলে উন্নয়নটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।’

গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকার লেকের উন্নয়নে ২০১০ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রকল্পের আওতায় লেক খনন, তীর সংরক্ষণ, লেক ড্রাইভ সড়ক, ওয়াকওয়ে ও কজওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং সড়কবাতি বসানোর কাজ হয়েছে।

এতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগে লেকপাড়ের যেসব অংশে হাঁটা কঠিন ছিল, সেখানে এখন মানুষ চলাচল করতে পারছেন। কিছু অংশে লেকের পাড় আগের চেয়ে সুন্দর হয়েছে। কিন্তু লেকের পানি দূষণমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে লেকের পানির দুর্গন্ধ কিছুটা কমলেও ভরা বর্ষাতেও পানি নোংরাই রয়েছে।

এ প্রকল্প নিয়ে গত জুন মাসে দেওয়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে লেকের সঙ্গে স্যুয়ারেজ লাইন বিচ্ছিন্ন করা এবং বিকল্প নিষ্কাশনব্যবস্থা চালু না হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

প্রতিবেদনে এই প্রকল্পের কারণে পরিবেশ ও নাগরিক যাতায়াতব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করা হয়। তবে এর বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, লেকের পানিদূষণ, সরাসরি স্যুয়ারেজ সংযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যস্থাপনা প্রকল্পের পরিবেশগত উদ্দেশ্যকে চরমভাবে ব্যাহত করেছে।

পানির দুর্গন্ধ থাকলে মানুষ কতক্ষণ থাকবে? লেকের পাশে ইট-পাথরের কাজ হয়েছে। কিন্তু লেকের পানিটাই যদি নোংরা থাকে, তাহলে উন্নয়নটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
মাহফুজুল হক, বনানী এলাকার বাসিন্দা।

অর্থ খরচ হয়েছে পাড়ে

২০১০ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১০ কোটি টাকা। কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল ২০১৩ সাল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা আইনি জটিলতায় কাজ পিছিয়ে যায়। ২০২৫ সালে প্রকল্পে সংশোধন এনে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষের লক্ষ্য ঠিক করা হয়। সংশোধনে ব্যয় ৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫৫ কোটি টাকা।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পের ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ।

প্রকল্পের আওতায় গুলশানে লেকের পাড়ে ওয়াকওয়ে হয়েছে, সেই পথ দিয়ে হাঁটা যাচ্ছে

রাজউকের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশই গেছে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণে। সংশোধিত প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪৪৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে লেক খননে ৩৯ কোটি টাকা, তীর সংরক্ষণে ৮ কোটি, মাটি ভরাটে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি, লেক ড্রাইভ সড়ক নির্মাণে প্রায় ১৫ কোটি ৫৮ লাখ, ওয়াকওয়ে নির্মাণে ১ কোটি ৬৮ লাখ, কজওয়ে নির্মাণে ৬৩ লাখ, সড়কবাতি স্থাপনে ৪ কোটি এবং বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে।

এসব টাকায় বনানী কবরস্থান থেকে বনানী–১১ নম্বর সেতু এবং নিকেতন সেতু থেকে গুলশান-মহাখালী লিংক রোড পর্যন্ত লেক খনন, তীর সংরক্ষণ, মাটি ভরাট ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। হাতিরঝিল থেকে মরিয়ম টাওয়ার-১ পর্যন্ত লেক ড্রাইভ সড়ক ও সড়কবাতি বসানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় কজওয়ে নির্মাণ এবং লেকপাড়ে বৃক্ষরোপণ হয়েছে।

প্রকল্পটির পরিচালক রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাবের আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কেবল গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক নয়; বরং ঢাকার সব জায়গায় জলাধার বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একাধিকবার সভা করা হয়েছে। এসব লেক সংরক্ষণে সরকার নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দখলমুক্ত করে লেকের পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন, লেকের চারপাশে হাঁটার সুযোগ তৈরি, জলপথের উন্নয়ন। কিন্তু লেকের নোংরা পানি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত করছে।

রাজউক সূত্রটি জানায়, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অন্তত ৮৫ শতাংশ পানির সংযোগ পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত পয়োবর্জ্য পড়ছে। সেই কারণে প্রায়ই লেকের পানি থেকে দুর্গন্ধ আসছে। এ কারণে লেকের উন্নয়নে বিপুল টাকা খরচের সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অন্তত ৮৫ শতাংশ পানির সংযোগ পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত পয়োবর্জ্য পড়ছে। সেই কারণে প্রায়ই লেকের পানি থেকে দুর্গন্ধ আসছে। এ কারণে লেকের উন্নয়নে বিপুল টাকা খরচের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

জলে মল যাওয়া বন্ধ হবে কবে

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পানিতে মলমূত্র যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। তিন বছর আগে আতিকুল ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র থাকার সময় লেকে পয়োবর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার বাড়িগুলোতে কার্যকর সেপটিক ট্যাংক (এসটিপি) নিশ্চিত করোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তখন ডিএনসিসির জরিপে দেখা গিয়েছিল, অভিজাত এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়িতেই কার্যকর পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। এর ফলে বাসাবাড়ির কালো পানি সারফেস ড্রেন হয়ে সরাসরি খাল ও লেকে মিশছে।

ডিএনসিসি, ঢাকা ওয়াসা, রাজউক, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি এবং স্থানীয় সোসাইটিগুলোকে নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল তখন। রাজউকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিগত সরকারের কাছে রোডম্যাপ বাস্তবায়ন সহযোগিতা চাইলেও তা পাওয়া যায়নি।

লেকের উন্নয়ন প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, বনানী, চেয়ারম্যান বাড়ি, কড়াইলসহ কয়েকটি জায়গা দিয়ে সুয়ারেজের দূষিত পানি এখনো সরাসরি লেকে মিশছে।

রাজধানীর পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ওয়াসা। এই সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন আহমেদ এই সমস্যার জন্য পয়োবর্জ্যের পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ না হওয়ার কথা বলেন।

পয়োবর্জ্য জমে আছে গুলশান লেকের কালাচাঁদপুর এলাকায়। ২৬ জুলাই তোলা ছবি

আলমগীর হাসিন আহমেদ বলেন, রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দাশেরকান্দিতে অবস্থিত স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সক্ষমতা প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার (৫০০ এমএলডি) হলেও নেটওয়ার্ক পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় এটি বর্তমানে ‘আন্ডার ইউটিলাইজড’ বা সক্ষমতার চেয়ে কম ব্যবহৃত হচ্ছে। পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক অসম্পূর্ণ থাকায় সব এলাকার পয়োবর্জ্য সরাসরি প্ল্যান্টে পৌঁছাতে পারে না, ফলে বৃষ্টির সময় তা ড্রেন হয়ে লেকে চলে যায়।

ঢাকার পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা পরস্পরকে দোষারোপ করে থাকে। সিটি করপোরেশনের ভাষ্য হলো, তারা পানিনিষ্কাশন নালাগুলোর দায়িত্বে। কিন্তু ওয়াসার পর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক না থাকায় পয়োবর্জ্য পানিনিষ্কাশনের ড্রেন হয়ে লেকে চলে আসছে। অন্যদিকে ওয়াসার দাবি, নতুন ভবন নির্মাণের সময় সঠিক সেপটিক ট্যাংক রাখাসহ পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন ও রাজউকের। সেখানে নজরদারি অভাবে অনেক ভবন নিয়ম না মেনে সরাসরি ড্রেনে সংযোগ দিয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর হাসিন বলেন, বিভিন্ন সংস্থা বা সিটি করপোরেশন সমস্যার দায় একে অপরের ওপর চাপাতে চায়, কিন্তু বাস্তবে পরিকল্পনার অভাব এবং অকার্যকর ব্যবস্থাপনা পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।

আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় এই বিনিয়োগের প্রকৃত সার্থকতা তখনই অর্জিত হবে, যখন স্যুয়ারেজ লাইনসমূহ সম্পর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ এবং কঠোর প্রশাসনিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পানির মান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে এটিকে একটি আদর্শ নগর বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের আওতায় গুলশানে লেকের পাড়ে সৌন্দর্য বেড়েছে

সমন্বিত কাজে গুরুত্বারোপ

৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন এলাকার ভবনগুলোর পয়োনিষ্কাশন সংযোগব্যবস্থা যাচাই এবং লেককে দূষণমুক্ত করা নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেকের বর্জ্য অপসারণ, পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যেসব ভবনের পয়োবর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে, তা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আলোচনা হয় সভায়। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ রক্ষায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। কড়াইল বস্তির বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকে না পড়ে, সে জন্য কী কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছিলেন।

প্রথম কাজ হওয়া উচিত লেকের সঙ্গে পয়োবর্জ্য ও ড্রেনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, পানিপ্রবাহ সচল রাখা এবং জমি সুরক্ষিত করা। তা না হলে প্রকল্প থাকবে, কিন্তু লেক বাঁচবে না।
আদিল মুহাম্মদ খান, নগর–পরিকল্পনাবিদ

বিশেষজ্ঞদের মত, বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে লেকের উন্নয়ন করলে, স্থায়ী ফল দেবে না। পাড়ের উন্নয়ন হবে, কিন্তু লেকের পানি দূষিত থেকে যাবে।

নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেককে শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জায়গা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধারগুলোর একটি। ওয়াকওয়ে বা সড়ক নির্মাণ উন্নয়নের একটি অংশ হতে পারে। তবে প্রথম কাজ হওয়া উচিত লেকের সঙ্গে পয়োবর্জ্য ও ড্রেনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, পানিপ্রবাহ সচল রাখা এবং জমি সুরক্ষিত করা। তা না হলে প্রকল্প থাকবে, কিন্তু লেক বাঁচবে না।