ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সংবাদকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে
ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সংবাদকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে

হামলার বিচার না হলে জামায়াতের কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল শেষে এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। তা না হলে জামায়াতের সব কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম। বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা অংশ নেন এই কর্মসূচিতে।

আজ সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের একটি সমাবেশের সময় মারধরের শিকার হন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।

মানববন্ধনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা করার এই রীতি কিন্তু আজকে নতুন নয়। এর আগেও দেখেছি পুলিশ আমাদেরকে পেটাচ্ছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল আমাদেরকে পেটাচ্ছে। তারা সাংবাদিকদের হামলা করে, মারধর করে রাতে এসে আবার একটা ছবি তুলবে, ফল দেবে, সমবেদনা জানাবে, এরপর শেষ। এই সংস্কৃতি থামবে কবে?’

ধানমন্ডিতে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। জামায়াতের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, হামলা করার পর জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকের কাছে এসে সমবেদনা জানাচ্ছেন, তাঁরা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা বিচার করবেন। কিন্তু এটা দুই দিন পরেই কিন্তু আবার সবাই ভুলে যাবে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখা না যায়, তাহলে প্রয়োজনে জামায়াতের সব কর্মসূচি বর্জন করা হবে।

মানববন্ধনে কালবেলার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক অন্তু মুজাহিদ বলেন, ‘জামায়াতের নেতা–কর্মীরা যেখানে হামলা করেছেন, সেই জামায়াতে ইসলামীর কাছে আপনারা বিচার দাবি করছেন, এটা খুবই হাস্যকর ব্যাপার। দল কখনো তাদের নেতা–কর্মীদের বিচার করে না, সুরক্ষা দেয় এবং দল বড়জোর যা করতে পারে, সাময়িক বহিষ্কারের নামে একটা নাটক করতে পারে।’

নিজেদের সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকদের সংঘবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই জায়গাতেও আমাদের অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে আমি মনে করি। আজকের যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, এটা রাষ্ট্রের দায়। যখন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সাংবাদিককে পেটাচ্ছে, সেখানে পুলিশ সদস্যরাও কিন্তু উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সেটা ঠেকানোর জন্য কোনো ধরনের প্রচেষ্টা করেনি।’