রাস্তার ওপরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আজ রোরবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে
রাস্তার ওপরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আজ রোরবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে

রাড্ডা সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো দেওয়া হলো চিকিৎসা

রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের সামনে বসেই কর্মীরা আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন রোগীদের।

সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয় ৩৭ শিশুকে। এ ছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় আরও অন্তত ১৫ জনকে। আজ প্রায় অর্ধশত মানুষ এই কেন্দ্র থেকে সেবা পেয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, স্বাভাবিক দিনে গড়ে এই কেন্দ্র থেকে সেবা দেওয়া হতো ১২০ থেকে ১৫০ জনকে।

নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে প্রথমে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। এরপর মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থ ও অন্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা, তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আজ রোববার সেন্টারটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রাস্তার ওপরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে সেটা সীমিত পরিসরে। টিকাদানের পাশাপাশি সেন্টারটিতে মা ও শিশুদের নানা সেবা দেওয়া হতো। গর্ভবতী নারীদের কম খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ ছিল। এখন সেসব সেবা বন্ধ আছে। অনেকে এসে ফিরেও যাচ্ছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা আশপাশের রোগীরা।

মনোয়ারা বেগম এসেছিলেন ডাক্তারদের সঙ্গে পরামর্শ নিতে। কিন্তু তখন ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আসা মানুষের ভিড় দেখে তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষেরা এখন কোথায় যাবে?’ সেবা নিতে আসা রোগীরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানান, সরকার যাতে সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়। সেবাগুলো যাতে পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করে।

রাড্ডা সেন্টারে চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্যারামেডিক ফারজানা বলেন, আগে শিশুদের কার্ড পূরণ করে অপেক্ষা করিয়ে টিকা দেওয়া হতো। শিশুর ওজন ও উচ্চতা মাপা হতো। পুষ্টি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হতো। সন্তান জন্মের পর মায়েদেরও পুষ্টি পরামর্শ দেওয়া হতো। পরিবার পরিকল্পনা ও প্রসব-পরবর্তী সেবাও দেওয়া হতো। এখন এসব সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, নদীর ওপার থেকেও অনেক রোগী এখানে আসেন। তাঁদের বেশির ভাগই দরিদ্র মা-বাবা। কম খরচে সেবা পাওয়ার জন্য তাঁরা এই কেন্দ্রে আসতেন। বড় হাসপাতালের খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, যে বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়েছিল, সরকার যেন সেটাকে ধরেই বিচার করে।’