দুই দিনব্যাপী আনন্দ মেলায় সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন উদ্যোক্তারা। গুলশান, ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
দুই দিনব্যাপী আনন্দ মেলায় সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন উদ্যোক্তারা। গুলশান, ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে গুলশানে আনন্দ মেলা

প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে রাজধানীর গুলশানে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আনন্দ মেলা। গুলশান সোসাইটির উদ্যোগে টানা দশমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। গুলশান সোসাইটি পার্ক-সংলগ্ন ৬২ ও ৫৬ নম্বর সড়কে এ মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত।

মেলায় দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন উদ্যোক্তারা। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাও। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ওপেন মাইক’ পরিবেশনা। যেখানে যে কেউ নিবন্ধন করে মঞ্চে গান, আবৃত্তি, নাচ, বাদ্য কিংবা কমেডি পরিবেশন করতে পারছেন।

আয়োজকেরা বলছেন, শহুরে যান্ত্রিক জীবনে একই পাড়ায় থেকেও প্রতিবেশীদের মধ্যে যোগাযোগ কম। সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে সবাইকে একটি আনন্দ আয়োজনে যুক্ত করতেই এ উদ্যোগ। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো পরিবার-বন্ধু নিয়ে কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া আর সুরে-ছন্দের সম্মিলনে ‘এই মহল্লা আমাদের’—এমন একটি ধারণা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।

বিকেলে মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী ইরফান উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ আয়োজন হচ্ছে। আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পণ্য তুলে ধরা হয়েছে। এমন আয়োজন প্রতি মাসেই হওয়া দরকার।’

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সামনে বসে তা উপভোগ করছেন নানা বয়সী দর্শক। গুলশান, ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছেন মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাসিনা খুকু। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মেলায় আসার কারণে তাঁর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার একটি নতুন উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সুন্দর আয়োজন। এসব আয়োজন নাগরিক সম্পৃক্ততাকে আরও বৃদ্ধি করবে।

নিত্যব্যবহার্য টেবিলওয়্যার নিয়ে মেলায় এসেছে ‘লীলাবালি ক্রাফট’। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা সেলিনা মোমেন। প্রথম দিনের সাড়ায় সন্তোষ জানিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেলার আরও এক দিন বাকি আছে। আশা করছি, আগামীকাল আরও বেশি সাড়া পাব।’

স্ত্রী ও সদ্য হাঁটতে শেখা সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সামির মল্লিক। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের সবার সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দেয়। এমন ভিন্নধর্মী আয়োজন বাড়ানো দরকার।’

মেলার আয়োজন নিয়ে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত বলেন, ‘আমরা এখানকার পাড়াভিত্তিক সম্পর্কগুলো জোরদার করতে বছরজুড়েই বিভিন্ন আয়োজন করি। তারই অংশ হিসেবে আমাদের আনন্দ মেলার আয়োজন।’

ওমর সাদাত আরও বলেন, ‘এখানে পরিবার–পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এ এলাকার পরিচিতজনেরা আসছেন, তাঁদের পরস্পরের দেখা হচ্ছে, যোগাযোগ বাড়ছে। আমরা চাই, মানুষের মধ্যে সম্পর্কগুলো আরও জোরদার হোক। পাড়াভিত্তিক সম্পর্কগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া আরও বাড়ুক।’

এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে জানিয়ে গুলশান সোসাইটির সভাপতি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ উৎসব আর আয়োজনে বাঁচতে চান। তাঁদের সাধারণ জীবনযাপনের একটি ছাপ মেলার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে উদ্যোক্তারাও এসেছেন।’ সামনের দিনে মেলায় আরও বেশি প্রতিষ্ঠানের সমাগম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।