
চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৪০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেব শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেখানো আসামিরা হলেন জামায়াতের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নগরের পাহাড়তলী থানার সেক্রেটারি মো. ইকবাল, জামায়াতের কর্মী আবদুল মোতালেব, হেলাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মো. ইউসুফ, মোশারফ হোসেন, মো. সুমন, সাদ্দাম হোসেন, মো. বিল্লাল প্রমুখ।
পুলিশ জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা কেন্দ্র করে ১৫ আগস্ট নগরের ওয়াসা মোড় ও কাজীর দেউড়িতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মীদের। পরে অভিযান চালিয়ে ওই দিন ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ।
কোতোয়ালি থানা-পুলিশের গ্রেপ্তার করা ৪০ আসামির মধ্যে ৩৮ জন এবং বন্দর থানা-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দুজন গত ২৮ জুলাই নগরের ডবলমুরিংয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে ডবলমুরিং থানা-পুলিশ। ওই দিন জুমার নামাজের পর জামায়াতের নগর শাখার নেতা-কর্মীরা আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি চৌমুহনী মোড়ে পৌঁছালে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কোতোয়ালি থানা ও বন্দর থানা-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৪০ জন ডবলমুরিং থানায় হওয়া মামলায় জড়িত থাকার তথ্য পায় পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
এ দিকে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালীকে ডবলমুরিং থানা-পুলিশের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আজ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহান তা নামঞ্জুর করে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। গত সোমবার নগরের পাঁচলাইশ বাদুড়তলা থেকে হেলালীকে গ্রেপ্তার করা হয়।