অভিযোগ ধর্ষণের, মামলা ধর্ষণচেষ্টার!

ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী (১৫) থানায় যায় মামলা করতে। তবে থানা-পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত মামলা নেয়নি। বরং মামলা রেকর্ড করে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ হিসেবে। পরে ওই কিশোরী ও তার পরিবার যায় জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। এরপর জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ধর্ষণ অভিযোগসংক্রান্ত মামলা নেয় পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর সেনবাগ থানায়। আর ওই থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর ভাই প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বোনের সঙ্গে ধর্ষণসংক্রান্ত পরপর দুটি ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ঘটনা ঘটে মার্চের ২৭ তারিখে। ওই দিন বিকেলে উপজেলার একটি বাজারের মুদিদোকানে কিছু পণ্য আনতে যায় তাঁর বোন। ওই মুদিদোকানের মালিকের ছেলে মো. রাজু (২৫) তাঁর বোনকে কৌশলে একটি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ঘটনা জেনে তাঁরা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজুর বাড়ি যান বিচার চাইতে। তবে ওই সময় সেখানে উপস্থিত হন উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস চন্দ্র মিত্র। তাপস চন্দ্র ঘটনা শুনে পরদিন তাঁদের থানায় আসতে বলেন। সে অনুযায়ী পরদিন তাঁরা থানায় গেলে এসআই তাপস ঘটনাটি এলাকায় মীমাংসা করার কথা বলে তাঁদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

কিশোরীর ভাই বলেন, পরের ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার রাতে। ওই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অভিযুক্ত রাজুসহ কয়েকজন কৌশলে তাঁর বোনের ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর বোন চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এসে রাজুকে আটক করেন। তাৎক্ষণিক তাঁরা থানায় খবর দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। পরে তাঁরা জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। এতে থানা থেকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাছির উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর এএসআই নাছির তাঁর বোন ও রাজুকে থানায় নেন। থানায় তাঁর বোন আগের ঘটনাসহ দুটি ঘটনা বর্ণনা করে ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত মামলার চেষ্টা করে। তবে সে সময় পুলিশ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের মামলা রেকর্ড করে।

কিশোরীর ভাই আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁরা মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফের সঙ্গে দেখা করেন ও পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। এরপর ইলিয়াছ শরীফ থানার ওসিকে ডেকে এনে তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। বর্তমানে তাঁর বোন সেনবাগ থানায় রয়েছে। বুধবার তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী নেওয়া হবে বলে জানান ওই কিশোরীর ভাই।

এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান শেখের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয় কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান দাবি করেন, সোমবার ওই কিশোরী ও তার পরিবার যেভাবে ঘটনার বর্ণনা করেছে, সেভাবেই মামলা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন বলছে, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি মিজানুর বলেন, পুলিশ এখন আগে মামলার এজাহারের সঙ্গে এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করবে এবং ঘটনাটি সে অনুযায়ী তদন্ত করবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত রাজুকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এসআই তাপস চন্দ্র মিত্র দাবি করেছেন, ২৭ মার্চ রাতে তিনি টহলে গিয়ে ঘটনা জানতে পেরে অভিযুক্ত রাজুর বাড়িতে ওই কিশোরীকে পান। এরপর তাদের বক্তব্য শোনেন ও উভয় পক্ষকে পরদিন থানায় আসতে বলেন। তবে তারা আসেনি।