সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন ও অনিয়মের মাধ্যমে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাঁপারহাট ও বাজার ইজারা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোকন উদ্দিন নামের এক দরদাতা ১৯ এপ্রিল এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রাব্বি উপজেলার চাঁপারহাট ও বাজার ইজারা দেওয়ার জন্য গত ১৮ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করেন। তিনজন দরদাতা ৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র দাখিল করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীর আলম ৬৫ লাখ টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা এবং রোকন উদ্দিন ওরফে বাবুল ৫৮ লাখ টাকা দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। হাটবাজার ইজার প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী সাত কার্যদিবসের মধ্যে, অর্থাৎ ১ মার্চের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারামূল্যের সমুদয় অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হন জাহাঙ্গীর আলম।
ইউএনও সর্বোচ্চ দরদাতার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার পরও জাহাঙ্গীর আলমের দরপত্র বাতিল না করে তাঁকে মৌখিকভাবে ইজারা দেন। ওই নির্দেশ পেয়ে বর্তমানে জাহাঙ্গীর আলম চাঁপারহাট ও বাজারের টোল আদায় করছেন। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ১৬ এপ্রিল জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে সোনালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। একইভাবে পরে তাঁকে আরও অর্থ জমাদানের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
সরকারি হাটবাজারসমূহের ব্যবস্থাপনা, ইজারা পদ্ধতি এবং তা থেকে প্রাপ্ত আয় বণ্টন-সম্পর্কিত নীতিমালার ৩.৪ অধ্যায়ের ৩.১, ৩.২, ৩.৩ উপ-অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, দরপত্র অনুমোদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদিত দরদাতাকে জানাতে হবে। দরপত্র দাতা অবহিত হওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে দরপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত জামানতের ২৫ শতাংশ অর্থ সমন্বয় করে ইজারার অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ অর্থ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর পরিশোধ করবেন। অন্যথায় তাঁর দরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে ও জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। গৃহীত দরের সম্পূর্ণ টাকা সরকারের নির্দিষ্ট খাতে জমা দেওয়ার পর হাটবাজারের দখল অনুমোদিত দরপত্র দাতার কাছে নির্ধারিত চুক্তিনামার মাধ্যমে দিতে হবে।
কালীগঞ্জের ইউএনও গোলাম রাব্বি বলেন, ‘সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমকে চাঁপারহাট ও বাজারের ইজারার বিপরীতে টোল আদায় করতে বলেছি। কিছুটা বিলম্ব হলেও তিনি সমুদয় অর্থ জমা দিয়েছেন।’ নীতিমালা অনুযায়ী জাহাঙ্গীর আলমের সঠিক সময়ে ইজারা মূল্য জমা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যা বলার ছিল, তা আমি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, রোকন উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমকে আমার কার্যালয়ে শুনানির জন্য ডেকেছি। ৫ ও ৬ মে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানির ভিত্তিতে নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’