পানিতে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে গরুর দুধ!

প্রথমে নলকূপের পানি ভরা হয় প্লাস্টিকের পাত্রে। পানিতে মেশানো হয় খোলা গুঁড়া দুধ। এভাবে প্রস্তুত ভেজাল দুধ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। গত মঙ্গল ও গতকাল বুধবার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দুটি বাজারে গিয়ে ভেজাল দুধ তৈরির এ দৃশ্য চোখে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা শহর ছাড়াও উপজেলা সদরের মুদি দোকানগুলোতে খোলা গুঁড়া দুধ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। এসব গুঁড়া দুধ কিনে পানির সঙ্গে মিশিয়ে সাটুরিয়ার বিভিন্ন বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল দুধ তৈরি করছে। প্রতি কেজি গুঁড়া দুধে ১২ থেকে ১৫ কেজি দুধ তৈরি করা হয়। মূলত অধিক মুনাফার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল দুধ তৈরি করে থাকে। এরপর সেগুলো স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এসব দুধের বেশির ভাগ ঢাকার বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে সাটুরিয়ার পার তিল্লী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের পূর্ব-উত্তর পাশের টিউবওয়েল চাপছে একজন। আরেকজন সেই পানি নিয়ে পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা প্লাস্টিকের পাত্রে ভরছে। এরপর পলিথিন থেকে গুঁড়া দুধ বের করে পানিভর্তি পাত্রগুলোতে মেশাচ্ছে তারা। এ সময় ক্যামেরায় ছবি তুলতে গেলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিল্লী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পার তিল্লী গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে সুজন হোসেন কয়েকজনের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধ তৈরি করছেন। সুজন হোসেন বলেন, ঢাকায় মিরপুর ও শ্যামলীতে মিষ্টির দোকানে গরুর দুধ সরবরাহ করেন তিনি। তবে ওই দিন চাহিদা বেশি থাকায় পানির সঙ্গে গুঁড়া দুধ মেশানো হয়।
ভেজাল দুধ তৈরির সত্যতা নিশ্চিত করে পার তিল্লী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মহিদুল ইসলাম পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।
এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাটুরিয়ার তিল্লী বাজারে গিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করতে দেখা যায়। স্থানীয় বাদল ঘোষ কৃষকদের কাছে থেকে গরুর দুধ কেনার পাশাপাশি ভেজাল দুধও তৈরি করছেন। কথা হলে তিনি বলেন, দুধের চাহিদা বেশি। কিন্তু কৃষকেরা আগের মতো দুধ বাজারে আনেন না। এ কারণে গরুর দুধের পাশাপাশি পানি ও গুঁড়া দিয়ে দুধ তৈরি করছেন তিনি।
ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি গোলাম ছারোয়ার বলেন, দুধ হলো শিশু, রোগী ও বিভিন্ন বয়সের মানুষের অন্যতম পুষ্টিকর খাদ্য। এটি মিষ্টি বা সরাসরি দুধ হিসেবেই যাক না কেন, খাঁটি হিসেবেই ভোক্তার কাছে যেতে হবে। ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধ মেশানো কারও কাম্য নয়। বিষয়টিতে প্রশাসনের নজরদারি করা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস প্রথম আলোকে বলেন, ভেজাল দুধ তৈরি বন্ধে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ভেজাল দুধ তৈরিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।