দুস্থ প্রতিবন্ধীদের কল্যাণের কথা বলে বিডিডিএস নামের একটি সংগঠন তিন মাস ধরে রংপুর নগরসহ আশপাশের জেলায় লটারির টিকিট বিক্রি করে। লটারির সরকারি অনুমোদন আছে বলেও প্রচার করে তারা। এমনকি লটারির ড্র অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের লোকজন উপস্থিত থাকবেন উল্লেখ করে পোস্টার বের করা হয়।
গত শুক্রবার সেই লটারির ড্র অনুষ্ঠানের কথা। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়ে, টিকিট বিক্রির টাকা হাতিয়ে পালিয়ে যান আয়োজকেরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ডিজঅ্যাবল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (বিডিডিএস) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত তিন মাস প্রতিবন্ধী দুস্থদের কল্যাণে ১০ টাকা মূল্যের লটারির টিকিট বিক্রি করা হয়। ঠিক কত টিকিট বিক্রি করা হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান জানা না গেলেও টিকিট কিনেছেন এমন কয়েকজন ক্রেতা জানান, তাঁদের ধারণা ১০ লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্যমান প্রায় ১ কোটি টাকা।
টিকিটে প্রথম পুরস্কার নগদ ৫ লাখ টাকা অথবা ৮০০ সিসি কার, দ্বিতীয় পুরস্কার নগদ দুই লাখ টাকা অথবা মোটরসাইকেল একটি, তৃতীয় পুরস্কার নগদ ১ লাখ টাকা অথবা ৩৬ ইঞ্চি এলইডি টিভি, একটি রেফ্রিজারেটর ও একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার। চতুর্থ পুরস্কার নগদ ২০ হাজার টাকা বা ৩৩ ইঞ্চি এলইডি টিভি একটি, নগদ ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও ১ হাজার ৫০টি অন্য পুরস্কারের ঘোষণাও রয়েছে।
টিকিটের গায়ে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত প্রতিবন্ধীদের সমাজ উন্নয়নে স্বাধীন বাংলা র্যা ফল ড্র ২০১৫’ লেখা রয়েছে। টিকিটের মধ্যে বিডিডিএসের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা আছে জ-৪৭, মধ্য বাড্ডা, গুলশান, ঢাকা।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ বলেন, এ ধরনের লটারি অবৈধ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি নেই। সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লটারির ড্র ২৭ ও ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৪ এপ্রিল করা হয়। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠান শুরুর আগে লোকজন জানতে চান তাঁদের কুপন বাক্সে আছে কি না। এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে টিকিট ক্রেতাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে লোকজন আয়োজকদের ধাওয়া করলে সংগঠনের সভাপতি হারুন-অর-রশিদসহ তাঁর লোকজন পালিয়ে যান।
এ প্রসঙ্গে একজন টিকিট ক্রেতা কাউনিয়া উপজেলা থেকে আসা রমজান আলী বলেন, ‘বিক্রীত টিকিটগুলো বাক্সে না ফেলে অবিক্রীত টিকিট বাক্সে ফেলা হয়। এর ফলে গন্ডগোল বাঁধে। আয়োজকেরা এটিই চেয়েছিল।’ তাঁর সঙ্গে আরও অনেকে একই অভিযোগ করেন।
এদিকে লটারি ড্র পরিচালনার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটানো হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বলা হয় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমানের নাম। আর প্রধান অতিথি হিসেবে ছিল মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমানের নাম।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াছির বলেন, ‘পোস্টারে নাম ছাপা হয়েছে এ বিষয়টি আমরা জানতাম না। বারবার ওদের ফোন আসায় লটারির ড্রর অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি সব ভুয়া। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চলে আসি।’ ছাত্রলীগ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ফখরুল হাসান জানান, এ বিষয়টির কিছুই তিনি জানেন না।