পঞ্চগড় সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এ ছাড়া এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
ডিসির কার্যালয়ের সামনে বেলা দেড়টা থেকে মানববন্ধন হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ওই সহকারী শিক্ষকের (তিন সন্তানের জনক) অনৈতিক কার্যকলাপ ও বাল্যবিবাহের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আরেক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পরে মানববন্ধনকারীরা ডিসির বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন থেকেই ওই শিক্ষক বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করছিলেন। গত ১৫ জানুয়ারি এসএসসি পরীক্ষার সাজেশন দেওয়ার কথা বলে ওই শিক্ষক ছাত্রীটিকে ফুঁসলিয়ে পঞ্চগড় শহরে নিয়ে আসেন। পরে ছবি ও স্ট্যাম্পে ওই ছাত্রীর স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষক তাঁর সঙ্গে ছাত্রীটির বিয়ে হয়েছে বলে প্রচার করতে থাকেন। এমনকি বিয়ের কাগজপত্রও দেখান। ওই কাগজে ছাত্রীটির বয়স দেখানো হয়েছে ১৯ বছর। অথচ তার জন্মসনদ অনুযায়ী বয়স চলছে ১৬ বছর। বিয়ের ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষক ওই ছাত্রীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। তবে ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা যায়।
ওই ছাত্রী বলে, ‘আমাকে এসএসসি পরীক্ষার সাজেশন দেওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ছবিতে ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে।’
তবে ওই শিক্ষক বিয়ের চুক্তিপত্র/ঘোষণাপত্রের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘প্রলোভন ও ফুঁসলিয়ে নয়, দীর্ঘদিন ধরে দুজনের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক। ভালোবাসাকে পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা দেওয়ার জন্য আমরা উভয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাহেদুল হক বলেন, ‘এমন ঘটনার কথা শুনেছি। আমাদের অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নিতাম। যেহেতু বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে, এখন আমি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।’
জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্মারকলিপিটি পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হবে।