স্ত্রী খুনের মামলায় সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের জামিন নামঞ্জুর

বাবুল আক্তার ও মাহমুদা খানম মিতু
ফাইল ছবি

স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যার ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি ফখরুদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, স্ত্রী খুনের মামলায় বাবুল আক্তারের জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন।

বাবুলের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান, আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি নিয়ে তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে বাবুলকে স্ত্রী খুনের মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখান।

আদালত বাবুলের করা মামলাটি তদন্তের জন্য গত বছরের ৩ নভেম্বর পিবিআইকে নির্দেশ দেন। এর আগে একই ঘটনায় বাবুলের শ্বশুরের করা মামলাটিও তদন্ত করছে পিবিআই। এই মামলায় বাবুলকে ১২ মে গ্রেপ্তার করা হয়। যেহেতু আসামিদের জবানবন্দি ও তদন্তে বাবুল স্ত্রী খুনে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাই বাদী বাবুল তাঁর করা মামলায় আসামি হয়েছেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন মাহমুদা খানম। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাবুলের আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, বাবুলকে আসামি করতে বানোয়াট চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দেওয়া হয়। অথচ সেই মামলায় পুলিশ ৫১ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে ১৬১ ধারায়। সেখানে একজনও বাবুলের সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। দুই সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে বাবুলকে আসামি করা হয়েছে। কাদের বাঁচানোর জন্য এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন, সেটা দেখতে হবে। বাবুল আক্তার মহলবিশেষের ষড়যন্ত্রের শিকার। ইতিপূর্বে তিনি স্বর্ণের চোরাকারবারি ও কালোবাজারিদের ধরেছেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করেছেন। গত ৩ নভেম্বর আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

বাবুল আক্তার বর্তমানে ফেনী কারাগারে রয়েছেন। মাহমুদার বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে গত বছরের ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছেন। পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। সর্বশেষ এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা নামের এক আসামি বাবুলকে তাঁর স্ত্রীকে খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করে ২৩ অক্টোবর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাবুল ও শ্বশুরের করা দুটি মামলা বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই। এর মধ্যে শ্বশুরের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন কয়েক দিনের মধ্যে দেওয়া হতে পারে বলে আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এআইজিপি বনজ কুমার মজুমদার।