
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিচয় দিয়ে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে একটি সোনার দোকানে ঢুকে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কামাল হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মো. এজাজুল হক আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ঠিক করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া তিন আসামি হলেন এস এম মোস্তাক আহমেদ (৬৫), মো. হাসান শেখ (৩৮) ও মো. আবুল কালাম আজাদ (৫২)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার এলাকার ‘আর্শীবাদ’ নামের একটি সোনার দোকানে আসামিরা জোর করে ঢোকেন। পরে তাঁরা সিআইডির পরিচয় দিয়ে দোকানের মালিক লিটন দেবের ভাই ও ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) জানানো হয়। পরে ডিবির কোতোয়ালি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. এনায়েত কবীর সোয়েবের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ছাই রঙের সিআইডির একটি জ্যাকেট, এক জোড়া হাতকড়া, সিল মারা একটি পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় লিটন দেব কোতোয়ালি থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, সিআইডি পরিচয়ে প্রতারণা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িত চক্রের বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন, অন্য সহযোগীদের শনাক্ত এবং সংশ্লিষ্ট মালামাল উদ্ধারের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে তাঁদের ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এজাজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা সিআইডি ও পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।