রাজধানীর সবুজবাগে তরুণী ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আজ শনিবার আদালতে তোলা হয়
রাজধানীর সবুজবাগে তরুণী ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আজ শনিবার আদালতে তোলা হয়

রাজধানীতে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় ৫ আসামি রিমান্ডে

রাজধানীর সবুজবাগে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী নামের এক তরুণীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

এর আগে পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম সিদ্দিকী।

আসামিরা হলেন নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), মো. সুজন (২০), মো.মামুন (২০) ও মো. রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি (১৯)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ৬ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর ফার্মসংলগ্ন সেতুর নিচে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাঁর নাম ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী (১৯)। পরে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে তাঁরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগী ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী, তদন্তে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার আসামি ও আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন। পরে ওই আসামিরা ভুক্তভোগীকে কৌশলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, ৪ আগস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ২ নম্বর আসামি ফারুক ও ভুক্তভোগী ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানী ছাড়া অন্য আসামিরা ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আবার বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর এসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। পরে তাঁরা সেখান থেকে যে যাঁর মতো চলে যান।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আসামিদের পূর্ববর্তী স্বভাব-চরিত্র এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে উল্লিখিত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রতীয়মান হয়। এরপর তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়।

সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, আসামিদের সবুজবাগ থানাধীন পৃথক পৃথক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়। ছুরাইয়া আক্তার হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত, তাঁদের অবস্থান ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ৬ আগস্ট সবুজবাগ থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামিদের আজ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।