
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, গুরুতর আঘাত ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভানকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার এসআই মো. আতিকুজ্জামান।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান (৫৭) দুই মাস ধরে পল্টন মডেল থানাধীন শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখেন।
১৭ আগস্ট রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানাধীন শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠছিলেন। ওই সময় মামলার আসামিরাসহ তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া ফারহান এবং অজ্ঞাতনামা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাদীর অটোরিকশার গতি রোধ করেন।
অটোরিকশার গতি রোধ করার কারণ জানতে চাইলে ধৃত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে টেনেহিঁচড়ে অটোরিকশা থেকে বের করেন। এ সময় আসামি জীবন ওরফে আদিল বাদীর ডান চোখে সজোরে ঘুষি মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। আসামিরা উপর্যুপরি আঘাত করে বাদীর মাথাসহ দুই চোখের ওপর এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। পথচারীরা এগিয়ে এসে এজাহারনামীয় আসামি জীবন ওরফে আদিলকে আটক করলেও অন্য আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যান।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, বেশ কিছুদিন আগে অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে বাদীর মুঠোফোনে কল করে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়। ওই মুঠোফোনের নম্বরের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সোর্সের তথ্যমতে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার পুলিশের সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার আসামি ফারহানকে তাঁর বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উল্লিখিত ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আসামি স্বীকার করেছেন। মামলার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় মামলার ঘটনা-সংক্রান্ত বিষয়ে এবং পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের জন্য আসামির ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত আবশ্যক।
শুনানি নিয়ে আদালত আসামি ফারহানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এই মামলায় দুজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসামি আদিল কারাগারে। ফারহানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।