অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন

নিউগিনি প্রপার্টিজ প্রকল্পে হামলা–ভাঙচুর: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন রিমান্ডে

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর (৬৬) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন আসামি মহিউদ্দিনকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে আজ সকালে এই মামলায় আরও তিন আসামি মিজানুর রহমান (৪৭), শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) এবং শাহ আলমের (৫৯) তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম। তাঁদের রিমান্ডে চেয়ে আগেই ক্যান্টনমেন্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করে রেখেছিলেন।

গতকাল রাতে মামলাটির তদন্তভার ডিবিকে দেওয়া হয়।

গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় আইনজীবী আনিসুর রহমান বাবুল রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া শুনানিতে বলেন, নিউগিনি প্রপার্টিজ ভূমিদস্যু। তারা চলাচলের রাস্তাও দখল করে নেয়। এটা একটা পরিকল্পিত মামলা। গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নাকি পারভেজ নামের একজনের পকেট থেকে সাত হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি একজন সাবেক মেজর জেনারেল। ডাক্তার মানুষ। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর জামিন প্রার্থনা করেন এই আইনজীবী।

ঢাকা বারের সেক্রেটারি আইনজীবী আবুল কালাম খান শুনানিতে আদালতকে বলেন, ‘গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছিলেন না। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে কর্মরত। তাঁর রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।’

২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আবাসন প্রকল্প এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল লোক। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০টি গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।

একপর্যায়ে হামলাকারী ব্যক্তিরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে। সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় তারা। ওই রাতেই সালমান মুক্তাদির ভাঙচুর হওয়া তাঁর স্টুডিও নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে দেশজুড়ে আলোচনা হয়।

মিরপুরে গভীর রাতে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরের রাতে এ হামলার ঘটনা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

এ ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাতজন গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে আছেন।