সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান

জিয়াউল আহসানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাবন্দী মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নিষ্পত্তি করতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই আবেদন করেছেন আসামির আইনজীবী ও তাঁর বোন নাজনীন নাহার। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে থাকা ৫২টি বিষয়ের নথি চেয়ে আরেকটি আবেদন করেছে আসামিপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন দুটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল বুধবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদনের শুনানিতে আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, যুক্তরাজ্যের নাইন বিআর চেম্বার্সের আইনজীবী স্টিভেন কে-কে নিয়োগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত ২২ জানুয়ারি বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন জিয়াউল আহসান। যাঁকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তিনিও বার কাউন্সিলে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়নি। তাই আবেদনটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) থেকে বলা হয়, বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল কিংবা প্রসিকিউশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়। বার কাউন্সিল অনুমতি দিলে আসামি বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারবেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তখন বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা বলার জন্য ট্রাইব্যুনাল ছাড়া তাঁদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

৫২টি বিষয়ে নথি চেয়ে আবেদন

সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য প্রয়োজন উল্লেখ করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে থাকা ৫২টি বিষয়ের নথি চেয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে আজ আরও একটি আবেদন করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। শুনানিতে তিনি বলেন, শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে করা এ মামলায় সাক্ষীরা বিভিন্ন সময় যেসব তথ্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য এসব ঘটনায় সরকারি দপ্তরে থাকা নথি প্রয়োজন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে বলেন, এর আগে ২২টি বিষয়ের নথি চেয়েছিল আসামিপক্ষ, যা ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে দিয়েছিলেন। এখন সেই ২২টিসহ মোট ৫২টি বিষয়ের নথি চাওয়া হয়েছে। দোষ বা নির্দোষ যাচাইয়ের জন্য এসব নথি জরুরি নয়—ট্রাইব্যুনালের আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি আগেই নিষ্পত্তি হয়ে আছে।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় বর্তমানে ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ হবে এবং যুক্তিতর্ক শুরু হবে। এ ছাড়া গুম, খুন ও নির্যাতনের আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে।