সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে আদালতে তোলা হয়। ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬
সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে আদালতে তোলা হয়। ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন কারাগারে, আদালতে যা বলল রাষ্ট্রপক্ষ

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে (৫৪) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিন দশক আগে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় আজ দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আরিফুর রহমান।

আবেদনে বলা হয়, ডনসহ এজাহারনামীয় অন্য আসামিসহ অজ্ঞাতনামারা পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান। আসামির জামিন হলে তদন্তে বিঘ্নসহ চিরতরে পলাতক হতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।

বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে কাঠগড়ায় তোলা হয় ডনকে। এ সময় তাঁকে রাগান্বিত দেখা যায়। এর ৫ মিনিট পর বিচারক এজলাসে আসেন। এ সময় বিচারক জিজ্ঞাসা করেন আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আছেন কি না। শুনানিতে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা। ডন ৪ নম্বর আসামি। আজ ডন দেশ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। ইমিগ্রেশন থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

পিপি বলেন, ‘ঘটনার দিন সালমান শাহর পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু তাঁর স্ত্রী সামিরা হক তাঁদের ঢুকতে দেননি। রাতে প্রোডাকশন ম্যানেজার বলেন, সালমান শাহর কিছু একটা করা হয়েছে, আপনারা আসেন। এ সময় সালমান শাহর পরিবার গিয়ে দেখে, তাঁর লাশ সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরে তারা মামলা করে। এ মামলায় ডন ৪ নম্বর আসামি।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণ করার চেষ্টা করা হয়। পরে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা হয়। রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ স্বীকারোক্তি দেন, সামিরার সঙ্গে ডনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে সালমান শাহকে হত্যা করেন। তাঁরা প্রথমে সালমান শাহকে অচেতন করেন এবং পরে আত্মহত্যা দেখানোর জন্য তাঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই আসামিকে (ডন) ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি পালাতে পারেন। আদালত শুনানি শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পর সিআইডি তাঁকে হেফাজতে নেয়।

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা–জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।