
রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানার ফুলবাড়িয়া বালুর মাঠ এলাকার হারুন মোল্লার বস্তিতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে সাত মাসের কন্যাশিশুকে আছাড় মেরে হত্যার মামলায় কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামি কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে ১৮ জুলাই অভিযুক্ত আসামি কবির ইসলামকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তুরাগ থানার এসআই মেহেদী হাসান ফয়সাল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার আসামির উপস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। এদিন শুনানিকালে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
১৬ জুলাই সাত মাস বয়সী রাফা মনি কবিতাকে আছাড় মারেন বাবা কবির ইসলাম। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পরদিন ১৭ জুলাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির করে তুরাগ থানা-পুলিশ। আদালত তখন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে রাফা মনিকে আছড়ে হত্যার ঘটনায় তুরাগ থানায় কবিরকে আসামি করে মামলা করেন শিশুটির নানি শারমীন আক্তার।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দুই বছর আগে কবিরের সঙ্গে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে রাফা মনির জন্ম হয়। কবির রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন করে কবির প্রায়ই লিমাকে মারধর ও গালিগালাজ করতেন। ১৬ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কবিরের সঙ্গে লিমার কথা–কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে কবির ক্ষিপ্ত হয়ে রাফা মনিকে তার নানির কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাথার ওপর তুলে রাস্তায় আছাড় মারেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।