
সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তাঁর মামা ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ আদালতকে বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে এক নম্বর আসামির (গাজী নজরুল) কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ঘটনায় ওবায়দুর জড়িত ছিলেন এবং সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর বিয়ে ও কাবিননামার সাক্ষীও এই ওবায়দুর। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামির কোনো ইন্ধন আছে কি না, তা জানতে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকি শুনানিতে বলেন, ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা, নাকি আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে, তা উদ্ঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
অন্যদিকে আসামির রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আইনজীবী গোলাম সাবের বলেন, ওবায়দুর শুধু গাড়িচালকই নন, তিনি ভুক্তভোগী মরিয়মের আপন মামা। বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা-মায়ের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ছিল। ওবায়দুর এর প্রতিবাদ করেছিলেন। এ ছাড়া এর আগে এক নম্বর আসামিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওবায়দুর একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন বলেই ক্ষোভ থেকে তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি ভিকটিমকে মানসিক নির্যাতন করতেন, ওবায়দুরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার তিন নম্বর আসামি ওবায়দুর রহমান (৩৮) বাদীর শ্যালক এবং মরিয়মের (১৯) আপন মামা। বিয়ের আগে থেকেই এক নম্বর আসামি গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) বাদীর বাসায় যাতায়াত করতেন। এই সুবাদে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওবায়দুর ওই এমপির গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নিয়ে যেতেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা একই বাসায় উপস্থিত ছিলেন। তাই ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনে আসামিদের ভূমিকা উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত এবং মামলার মূল রহস্য উন্মোচনের জন্য আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)–২। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলাটিতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে। তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এক দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বুধবার আদালত থেকে জামিন পান। তবে একই দিন গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন মামলার বাদী ও গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের একটি আপসনামা আদালতে দাখিল করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।