রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় চা-দোকানদার মো. আমির হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৮–এর বিচারক মো. খোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার মিলন হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন কবির হোসেন, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগম, তাঁর ভাই মো. হুমায়ুন ও মো. ফালান এবং মো. মিলন ওরফে নূরু।
পেশকার মিলন হোসেন বলেন, রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি কবির হোসেনকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। বেলা একটার দিকে রায় ঘোষণার পর তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নিহত আমির হোসেন রাজধানীর পলাশীর মোড়ে চা-সিগারেটের দোকান চালাতেন। হত্যার সাত থেকে আট মাস আগে স্বপ্না বেগমের সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকায় তাঁর কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই নারীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করার পর কবিরসহ চারজন কৌশলে আমির হোসেনকে সিএনজিতে তুলে রায়ের বাজার এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই স্বপ্না বেগম অপেক্ষা করছিলেন। পরিকল্পিতভাবে আসামিরা আমির হোসেনের ওপর হামলা চালান। কবির ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান।
পরে আহত অবস্থায় আমির হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন নিহত ব্যক্তির ভাই মো. জাকির হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। পরের বছরের ৯ এপ্রিল আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচারকালে ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।