
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে অবিলম্বে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু, প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত, শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আজ মঙ্গলবারও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এসব দাবিতে কলেজের শিক্ষার্থীরা গত রোববার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ সকালে তাঁরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। পরে একাডেমিক ভবনে তালা দেন। এ সময় শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পর্যায়ক্রমে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগামীকাল বুধবার সকালে ক্যাম্পাসে দাবিগুলো নিয়ে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি করবেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও এক বছর ধরে হাসপাতাল চালু হচ্ছে না। এতে তাঁরা হাতে-কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে এলাকার মানুষও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সবকিছু প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল চালু করতে গড়িমসি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছেন না, শিক্ষার্থীরাও ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে পারছেন না।
কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যেসব শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, সেই তালিকা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। হাসপাতাল চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার সুনামগঞ্জ–সিলেট সড়কের পাশে মদনপুর এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি অবস্থিত। বর্তমানে কলেজটিতে পাঁচটি ব্যাচে শিক্ষার্থী রয়েছেন।