
ঢাকার সাভারে অবস্থিত পাঁচটি জলাশয়ের মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাঁচটি জলাশয়ের মধ্যে তিনটি খাল ও দুটি বিল রয়েছে। এই খাল ও বিল পুনরুদ্ধারের জন্য দখল–দূষণকারীদের তালিকা এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপসংবলিত সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকার জেলা প্রশাসকের প্রতি ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ বাস্তবায়ন বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতেও বলা হয়েছে।
খাল তিনটি হচ্ছে, তেঁতুলঝড়া খাল, যোগী-জাঙ্গাল বা জুগী জঙ্গল খাল ও নয়নজুলী খাল। আর বিল দুটি হচ্ছে তাঁতি বিল বা শুকনা বিল ও রইপতা বা নোয়াদ্দা বিল। এই পাঁচ জলাশয় দখল–দূষণমুক্ত করে সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত রোববার ওই রিট করে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ আলী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস. হাসানুল বান্না। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
বেলা জানায়, সাভার উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বংশী ও ধলেশ্বরী নদী এবং তুরাগ নদের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য খাল, বিল ও জলাশয়ের মধ্যে জামুরমুচিপাড়া মৌজায় তেতুঁলঝড়া খাল, কান্দিবলিয়ারপুর, কোণ্ডা এবং চান্দুলিয়া মৌজায় বামনী খাল, পাথালিয়া মৌজায় যোগী-জাঙ্গাল (জুগী জঙ্গল) ও নয়নজুলী খাল, চারিগাঁও ও চাকরগাঁও মৌজায় তাঁতি বিল (শুকনা বিল), বড়ওয়ালিয়া ও মোহনপুর মৌজায় অবস্থিত রইপতা (নোয়াদ্দা) উল্লেখযোগ্য। এসব খাল ও বিলের সঙ্গে ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক গ্রামবাসীর জীবন ও জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। একসময় কৃষিনির্ভর সাভারবাসী সেচের জন্য অনেকাংশেই এসব খাল ও বিলের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সেই সঙ্গে এলাকার মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এসব খাল ও বিল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি নিজেদের আমিষের চাহিদা পূরণ করে আসছিলেন। খাল ও বিলগুলো দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ছিল।
বেলা আরও জানায়, অবৈধ দখলদারি ও দূষণে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব জলাশয় অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। এসব খাল ও বিলের অংশবিশেষ ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা। গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি শিল্পমালিকেরা তাঁদের শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলছেন খাল ও বিলগুলোতে। বর্জ্যমিশ্রিত এই দূষিত পানি একদিকে যেমন ফসলে পচন ধরাচ্ছে, অন্যদিকে বিলুপ্ত করছে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলেছে। খালের ওপর নির্ভরশীল কৃষক ও জেলে সম্প্রদায়ের এক বৃহৎ অংশ ইতিমধ্যে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে। ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য শিল্পকারখানা সাভারে স্থানান্তরিত হওয়ায় ও নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় উপজেলাটির জলাশয়গুলো অস্তিত্ব হারাচ্ছে এবং এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যে কারণে বেলা ওই রিট করে।