
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে পাক্কা মসজিদ জেলেপাড়ায় গতকাল শুক্রবার রাতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে পাঁচটি বসতঘর, একটি দোকান ও একটি মন্দির পুড়ে যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে গেছে ২২ পরিবার। তবে হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জেলেদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মধ্যরাতে তাঁদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বনাথ জলদাস বলেন, গতকাল রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে তাঁরা প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে যান। রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ ঘরের চালে আগুন দেখতে পান। তাঁরা ঘর থেকে দ্রুত বের হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে থাকেন। এ সময় তাঁরা পেট্রলের গন্ধ পান।
বিশ্বনাথ আরও বলেন, দুই বছর আগে সাগরের জাল পাতা নিয়ে উত্তরপাড়ার (ফকিরহাট জেলেপাড়া) এক জেলে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ঘরের পাশে রাখা কিছু ককশিটে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেবার আগুন ঘরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাঁরা বিষয়টি টের পান। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সামাজিক বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তাঁর ধারণা, প্রতিপক্ষের লোকজনই তাঁদের ঘরে আগুন দিয়েছে।
অপর জেলে রুহিদাস বলেন, তাঁদের সর্বহারা করে দিয়েছে একটা পক্ষ। এই শীতের দিনে একটি কাপড় ছাড়া তাঁদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন তাঁরা কোথায় যাবেন, কী করবেন, বুঝতে পারছেন না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য খায়ের হোসেন বলেন, জেলেদের ধারণা, শত্রুতাবশত তাঁদের ঘরে আগুন দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা কফিলউদ্দিন বলেন, তাঁরা তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।