
ওই ঘটনায় তৎকালীন নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে প্রধান আসামি ও ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় দেড় হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সদর থানার উপপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজার রহমান। মামলাটি নীলফামারী জজ আদালতে বিচারাধীন। তবে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়নি।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বলেছেন, আলোচিত ওই হত্যার ঘটনার সাত বছর হয়ে গেলেও মামলার তেমন অগ্রগতি নেই। আসামিরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
মামলাটির বাদী বাবুল আকতার বর্তমানে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জে কর্মরত আছেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাংসদ আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের চার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেন জামায়াত বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
নীলফামারী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অক্ষয় কুমার রায় বলেন, মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠনের অপেক্ষায় প্রায় তিন বছর ধরে আছে। ওই আদালতে এত দিন বিচারক না থাকায় মামলাটির অগ্রগতি হয়নি। ২০৬ জন আসামির মধ্যে দুজন মারা গেছেন।
হামলার ঘটনার পর তিন আসামির লাশ উদ্ধার
গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর দুই মামলার তিন আসামির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের করা মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানীর লাশ ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি সকালে জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের নীলফামারী-ডোমার সড়কের গোচামারী ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
২০ জানুয়ারি সৈয়দপুর বাইপাস সড়কের ধার থেকে টুপামারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিবিরকর্মী মহিদুল ইসলামের (২৬) লাশ উদ্ধার করা হয় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে। ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এক অজ্ঞাত পরিচয় আসামির লাশ উদ্ধার করে দাফন করা হয়। সেই লাশের ছবি দেখে একই বছরের ৪ মার্চ মহিদুলকে শনাক্ত করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মহিদুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগের (ফার্সি) মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।