দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখতে এসেছেন বহু মানুষ। শরীয়তপুরের জাজিরায়
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখতে এসেছেন বহু মানুষ। শরীয়তপুরের জাজিরায়

উদ্বোধনের ঘোষণার অপেক্ষায় পদ্মাপাড়ের লাখো মানুষ

পদ্মাপাড়ের জাজিরা ও শিবচরে সকালের আকাশে মেঘ-সূর্যের লুকোচুরি খেলা। কখনো প্রখর রোদ আবার কখনো মেঘ। এমন এক মোহনীয় পরিবেশে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণের লাখো মানুষ অপেক্ষায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর। কখন তিনি আসবেন, কখন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের কালের সাক্ষী হতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ শুনতে গতকাল শুক্রবার রাত থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে মানুষ আসতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা ছাড়াও চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকেও মানুষ এসেছেন। সকাল আটটার মধ্যে জাজিরা ও শিবচরের অন্তত চারটি ইউনিয়নের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ধরে মানুষ সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষে পদ্মাতীরের ছয় কিলোমিটার এলাকা পূর্ণ হয়ে গেছে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ১১টায় মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি টোল প্রদান করে সেতু পেরিয়ে জাজিরা প্রান্তের নাওডোবায় আসবেন। সেখানে ১১টা ৪৫ মিনিটে পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল উন্মোচন করবেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে যাবেন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিতে।

সকাল সোয়া নয়টার দিকে এ জনসভা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সেখানে বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। চাঁদপুরের একলাসপুর থেকে ট্রলার নিয়ে শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে এসেছেন আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার নিয়মিত যাতায়াতে পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে হয় না। তারপরও আমি আনন্দিত, আমাদের টাকায় স্বপ্ন ছুঁয়েছি। উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় আছি।’

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা থেকে বাসে করে শিবচরের পাচ্চর পর্যন্ত এসেছেন সাহাদাৎ হোসেন। এরপর তিনি ১২ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পৌঁছান সমাবেশস্থলের কাছে। সাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমাদের জীবনে পদ্মা সেতু কত প্রয়োজনীয়, তা বলে বোঝাতে পারব না। সেই সেতু উদ্বোধন হবে আর আমি আসব না, তা কি হয়? তাই ১২ কিলোমিটার হেঁটে আসতেও কষ্ট হয়নি।’

পদ্মা সেতুর নদীশাসনের বাঁধের ওপর গামছা মাথায় দিয়ে বসে ছিলেন শরীয়তপুর সদরের ডোমসারের বাসিন্দা লোকমান হোসেন (৭৫)। তিনি বলেন, ‘কখন আমাদের নেত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন সেই খবর শোনার জন্য রোদের মধ্যে অপেক্ষা করছি। পদ্মা সেতু হওয়ায় আমরা দক্ষিণের মানুষ আনন্দিত-উচ্ছ্বসিত।’

গোসাইরহাট সামছুর রহমান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান তাঁর ২৫ বন্ধুকে নিয়ে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন। মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরিদের কাছে পদ্মা সেতু ছিল স্বপ্ন। আর আমাদের প্রজন্মের কাছে তা আজ বাস্তব। এ সেতুর সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করবে আমাদের প্রজন্ম। নতুন প্রজন্মের তরুণদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন ও ধন্যবাদ। আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন বলেই পদ্মা সেতু বাস্তব রূপ পেয়েছে।’