
একে তো সূর্যের দেখা নেই, তার ওপর হিম বাতাস। প্রচণ্ড শীতে জবুথবু দিনাজপুর। কাজে বের হতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে যাঁরা বের হচ্ছেন, তাঁদের সবার কান-মুখ-মাথা গরম কাপড়ে মোড়ানো।
আজ বুধবার দিনের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও দিনাজপুরে একটুর জন্যও উঁকি দেয়নি সূর্য। কুয়াশার সঙ্গে ভাসছে সাদা মেঘ। জেলা আবহাওয়া কার্যালয় জানায়, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। আর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দিনাজপুরের রাজবাটি, কলেজ মোড়, চেহেলগাজী ও আউলিয়াপুরে কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকানে জবুথবু হয়ে বসে আছে অনেক মানুষ। অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহন চলাচলও কিছুটা কম।
চেহেলগাজী এলাকায় রাস্তার পাশে ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে বসে ছিলেন ৫০ ছুঁই ছুঁই ইজিবাইকচালক রাইসুল ইসলাম। রামনগর এলাকায় বাড়ি তাঁর। ঠান্ডার মধ্যে সকাল আটটায় গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। চার ঘণ্টায় ভাড়া পেয়েছেন ৬০ টাকা। আক্ষেপের সুরে রাইসুল বললেন, উপায় নেই। গাড়িটার ওপরে সংসার চলে। তার ওপর কিস্তি দেওয়া লাগে সপ্তাহে দেড় হাজার টাকা।
কলেজ মোড় এলাকায় টংদোকানি মাহাতাবউদ্দিন গুটিসুটি হয়ে বসে আছেন। কেমন শীত পড়ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কী কহিবো বারে, এ বছরই আইজকার মতো ঠান্ডা হয়নি। লোকজনও নাই, বেচাবিক্রিও নাই। হামরায় দোকানদার, হামরায় খরিদদার।’
রাজবাটি গোলামপাড়া মোড় এলাকায় রাশিদা আক্তার গরুর গায়ে চট জড়িয়ে দিয়ে খাবার দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ঠান্ডায় মানুষগিলায় কাবু হই গেছে। গরুগিলা তো বা অবলা, কথা কহির পারে না। জারে কোকড়া নাগি গেইছে।’
শীতে পোয়াবারো গরম কাপড়ের দোকানদারদের। বিক্রি বেড়েছে তাঁদের। বিশেষ করে শহরের কাছারি এলাকায় হকার্স মার্কেট এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাস্তার পাশে অস্থায়ী কাপড়ের দোকানে ভিড় বেশি। এখানে পুরোনো জ্যাকেট, সোয়েটার, কম্বল, চাদরসহ বিভিন্ন গরম কাপড় বিক্রি হয়। এসবের মধ্যে মাফলার, মোজা, টুপি ও পুরোনো জ্যাকেটের চাহিদা বেশি।
একটি দোকানে মাফলার কিনছিলেন ষাটোর্ধ্ব আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, বয়স্কদের ঠান্ডা বেশি। গতবার এরকম মাফলার কিনেছিলেন ৮০ টাকায়। এবার একই মাফলারের দাম ১৪০ টাকা। শীত প্রায় শেষের দিকে। শেষ মুহূর্তে ঠান্ডাটা একটু বেশিই লাগে। এটা শীতের নিয়ম।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছিল। চলমান শৈত্যপ্রবাহটি অন্যান্য এলাকার চেয়ে উত্তরের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও নওগাঁ এলাকায় বেশি। আকাশে মেঘের উপস্থিতি বাড়ছে। দু-এক দিনের মধ্যে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।