
বরিশালের উজিরপুরে আজ রোববার ভোরে যাত্রীবাহী যে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়েছে, সেটির চালক শুরু থেকে বেপরোয়া চালাচ্ছিলেন বলে আহত এক যাত্রীর ভাষ্য। দুর্ঘটনার পরপর একাধিক যাত্রী ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ চিৎকার করতে করতে মারা যান। উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত যাত্রী তালেব আলী (৪৫) প্রথম আলোর কাছে এমন দাবি করেন।
তালেব আলী বলেন, বাসচালক শুরু থেকেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মাঝেমধ্যে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলেন। এ সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ খানিকটা হারিয়ে ফেলছিলেন। আবার সঙ্গে সঙ্গেই ঠিক হয়ে যাচ্ছিল। কয়েকবার এমন হওয়ার পর যাত্রীরা তাঁকে ঠান্ডা মাথায় সাবধানে গাড়ি চালাতে বলেন। কিন্তু চালক যাত্রীদের কথায় কান দেননি। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উজিরপুরে বামরাইলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি রাস্তা থেকে বাইরে গিয়ে মেহগনিগাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এ সময় গাড়ির যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। একাধিক যাত্রী বাঁচাও, বাঁচাও চিৎকার করতে করতে মারা যান।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উজিরপুর উপজেলার বামরাইল গ্রামের মো. জাকির হোসেন (৫২) বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে সানুহার বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। পথে দেখলাম বাসটি আচমকা সড়কের বাইরে চলে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায় বাসটি। পরে এলাকাবাসী হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার শুরু করেন।’ পরে গৌরনদী ও উজিরপুর ফায়ার সার্ভিস, উজিরপুর মডেল থানা–পুলিশ ও গৌরনদী হাইওয়ে থানা–পুলিশ উদ্ধারকাজে যোগ দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ১০ জন এবং বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনসহ মোট ১০ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, সাতজনকে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ছয়জনকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আ. রাজ্জাক মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে সকাল ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস কেটে তার মধ্যে আটকে থাকা হতাহত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ বেলাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় গৌরনদী হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. মাহাবুব বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।