এবার বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল হাঁটছেন ৫২ কিলোমিটার

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল সোমবার সকালে ময়মনসিংহ নগর থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। সকালে টাউন হল এলাকায়
ছবি: আনোয়ার হোসেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত ময়মনসিংহের তিন গুণী ব্যক্তির সম্মানে আবারও পদযাত্রা শুরু করেছেন ময়মনসিংহের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। তাঁর সঙ্গে আছেন ৫২ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।

আজ সোমবার সকালে ময়মনসিংহ নগর থেকে তিনি পদযাত্রা শুরু করেন। ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রাম পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার পথ হাঁটবেন তিনি। এরপর বিকেলে ভালুকা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বইমেলা প্রাঙ্গণে তিনি বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেবেন।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহমুক্ত দিবসে বিমল পাল হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার হেঁটেছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্যে ছিল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। ওই সময় তাঁর সঙ্গে অসংখ্য তরুণ হেঁটেছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন ভালুকা উপজেলার বাসিন্দা ভাষাসৈনিক প্রয়াত মোস্তফা এম এ মতিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। এর আগের বছর একই পদকে ভূষিত হয়েছিলেন ফুলপুর আসনের সাবেক সাংসদ ও ভাষাসৈনিক শামসুল হক। একুশে পদকপ্রাপ্ত এ তিন ব্যক্তির সম্মানে তিনি এ পদযাত্রা করছেন।

বিমল পাল ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে যাত্রা শুরু করেন সকাল সাড়ে আটটায়। পণ্ডিতপাড়া থেকে হেঁটে যান নগরের মোড়লপাড়া এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বাড়ির সামনে। সেখান থেকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। আজ সোমবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বিমল পাল ত্রিশাল উপজেলার বৈলর বাজার অতিক্রম করেন।

এ পদযাত্রায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আছেন আলী ইউসুফ। তিনি বলেন, ৫২ জন তরুণ বিমল পালের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁরা বেশির ভাগ সময় বিমল পালের সঙ্গে হাঁটছেন। তবে বেশি ক্লান্ত হলেও কেউ কেউ কিছু সময়ের জন্য গাড়িতে চড়ে যাচ্ছেন। বিমল পালের এ পদযাত্রায় দুটি খোলা পিকআপ ভ্যান ও একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। যাত্রাপথে যেসব শহীদ মিনার রয়েছে, সেখানে যাত্রাবিরতি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পালের বয়স প্রায় ৭০। তিনি করোনা মহামারির শুরুর দিকে ময়মনসিংহের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে লাশ দাফন ও দাহ করার কাজ করেন। এ ছাড়া তিনি তরুণদের উদ্দেশে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলে বেড়ান। স্থানীয়ভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত।