সিলেটে বন্যা

কচুরিপানা খাইয়ে গরু ছাগল বাঁচানোর চেষ্টা

প্রাণিসম্পদ খাতে ১১ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

  • বন্যায় পানিতে ডুবে এবং রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১১টি গরু, ৬টি মহিষ, ২১টি ছাগল ও ১৬টি ভেড়া।

  • পশুপাখি মারা যাওয়ায় ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫০ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তীব্র গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায়

সিলেটে বন্যায় বিস্তীর্ণ গোচারণ ভূমি আর গবাদিপশুর আবাসস্থল তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছে ঘাস। অনেক কৃষক ও খামারির বাড়িতে তাঁদের মজুতে থাকা খড় এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় পচে গেছে। অনেক জায়গায় ভেসে গেছে খড়ও। এ অবস্থায় জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষক ও খামারিরা পড়েছেন বেকায়দায়। গবাদিপশুকে কচুরিপানা খাইয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।

এদিকে জেলার প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ১১ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সূত্র জানিয়েছে, বন্যায় ৭ হাজার ৩৫৪ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে। এখনো এর বেশির ভাগ পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যায় জেলায় ২ হাজার ৯১ মেট্রিক টন খড় বিনষ্ট হয়েছে। টাকার অঙ্কে এ ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বন্যায় জেলায় ২ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন ঘাস বিনষ্ট হয়েছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বন্যায় পানিতে ডুবে এবং রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১১টি গরু, ৬টি মহিষ, ২১টি ছাগল ও ১৬টি ভেড়া। এর বাইরে ৪ হাজার ৯৬৩টি মুরগি ও ১ হাজার ২৮৪টি হাঁস মারা গেছে। পশুপাখি মারা যাওয়ায় মোট ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫০ টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষক ও খামারিদের।

একই সূত্রের তথ্যানুযায়ী, জেলায় মোট গরু আছে প্রায় ১২ লাখ। এর বাইরে প্রায় ২ লাখ ছাগল, ৬০ থেকে ৭০ হাজার মহিষ এবং ৬০ থেকে ৬৫ হাজার ভেড়া আছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ২ লাখ ৩৩৫টি গরু, ২৭ হাজার ১৭৭টি মহিষ, ৪৯ হাজার ৪৫৪টি ছাগল এবং ১৮ হাজার ২৫১টি ভেড়া। এর বাইরে বন্যাকবলিত হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১০৬টি মুরগি এবং ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১৩টি হাঁস।

বন্যাকবলিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া ৯ হাজার ১৫৪টি গবাদিপশু এবং ১২ হাজার ২০৭টি হাঁস-মুরগিকে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ১০ হাজার ২৭২টি গবাদিপশু এবং ২৭ হাজার ৮৪৫টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলায় বন্যায় গবাদিপশুর ৭২১টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খামারে গরু ছিল ৩০ হাজার ৯২৩টি। টাকার অঙ্কে এ ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অন্যদিকে জেলায় ৩৬৮টি হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে। এসব খামারে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩১টি হাঁস-মুরগি ছিল। টাকার অঙ্কে এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

সিলেট সদর উপজেলার কসকালিকা বলাউরা গ্রামের কৃষক সুরুজ আলী (৭০) জানান, পুরো জেলায় গোখাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। কৃষক ও খামারিরা গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বন্যায় গোচারণ ভূমির অধিকাংশ জায়গা এখনো তলিয়ে থাকায় গোখাদ্য শিগগির সহজলভ্য হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে এ সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে এগিয়ে আসা উচিত।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে কৃষকেরা শুধু কচুরিপানা খাইয়ে গরু-ছাগল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তাই বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা কচুরিপানা এখন সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা। অনেক কৃষক নিজেদের গবাদিপশু বাঁচাতে ধারকর্জ করে টাকা এনে খড় ও দানাদার খাবার কিনে আনছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রুস্তম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় বিস্তীর্ণ গোচারণ ভূমি আর গবাদিপশুর

আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় খড়ও বিনষ্ট হয়েছে। এ সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে গবাদিপশুর মড়ক ও মৃত্যু প্রতিরোধে টিকাদান ও চিকিৎসার বিষয়টি আমরা করে চলেছি। এতে সফল হওয়ার কারণেই মড়ক ও মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়েছে।’