
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরে আমরাজুড়ি গ্রাম। গ্রামের পূর্ব প্রান্তে নদীর চরে রয়েছে ভূমিহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প। সেখানে ৮০টি পরিবারের বসবাস। গ্রামে কোনো শহীদ মিনার না থাকায় সেখানে কলাগাছ দিয়ে শিশুরা একটি শহীদ মিনার বানায়। এরপর আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয় একজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায় তারা।
শিশুরা জানিয়েছে, গতকাল রোববার দুপুরে সন্ধ্যা নদীর তীরে একটি মাঠে কলাগাছ কেটে, তাতে কাগজ মুড়িয়ে শহীদ মিনারটি বানিয়েছে তারা। এরপর সেখানে বালু দিয়ে তৈরি করে শহীদ বেদি। শহীদ মিনারের সৌন্দর্য বাড়াতে রশি টানিয়ে তাতে লাগানো হয় রঙিন কাগজ। গ্রাম ঘুরে সংগ্রহ করা হয় গাঁদা ফুল। আজ সোমবার সকাল সাতটার মধ্যে সেখানে জড়ো হয় শিশুরা। এরপর সেখানে উপস্থিত হন কাউখালী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল লতিফ খসরু। ভাষাশহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর শিশুদের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও ইতিহাস বলেন শিক্ষক আবদুল লতিফ।
আমরাজুড়ি আবাসনের বাসিন্দা ও স্থানীয় দত্তেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মুন্নি আক্তার (৯) বলে, ‘আমাদের গ্রামে শহীদ মিনার নেই। আমরা আবদুল লতিফ খসরু মামাকে শহীদ মিনার তৈরির কথা জানালে তিনি আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা নিজেদের তৈরি শহীদ মিনারে সবাই মিলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছি। খুব ভালো লেগেছে।’
সেতু দাস (১১) নামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বলে, শহীদ মিনারের জন্য কলাগাছ কাটা, বেদি তৈরি করা, মিনার প্রাঙ্গণ সাজানো—সব কাজ শিশুরা করেছে। আবদুল লতিফ কাগজ, আটা ও দড়ি কিনে দিয়েছেন। এই প্রথম সে শহীদ মিনার বানিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। খুব ভালো লেগেছে তার।
কাউখালী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল লতিফ খসরু বলেন, আমরাজুড়ি আবাসন ও এর আশপাশের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। এখান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে গন্ধর্ব জানকী নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। আবাসনে বসবাস করা শিশুরা শহীদ মিনার তৈরির কথা জানালে তিনি সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি শিশুদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবাসনে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করার দাবি জানান।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. খালেদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণের কথা ভাবছেন জেলা প্রশাসক। সেটি বাস্তবায়িত হলে আমরাজুড়ি আবাসনেও শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।