
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্লাহকে উদ্দেশ করে ওই আসনের বর্তমান সাংসদ মজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘কাকা, দুইবার লাল কার্ড পাইয়া বোঝেন নাই? এখনো সময় আছে, এবার জনতার কাতারে আইসা দাঁড়ান। আপনার যোগ্য সম্মান দেব।’
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নে কাজী ওয়ালিউল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এ আহ্বান জানান তিনি। আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জেলা যুবলীগের উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। নিক্সন চৌধুরী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।
সাংসদ নিক্সন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই শুইনা আসিতেছি, তিনি আসিতেছেন। এই কইরা আড়াই বছর চইলা গেল তিনি (কাজী জাফরউল্লা) আসলেন না। পরে শুনি উনি নাকি করোনার ভয়ে এলাকায় আসেন নাই। এলাকায় না আসলেও তিনি করোনা থেকে মুক্তি পান নাই। ঢাকায় তাঁর বাড়িতে জানালা দিয়ে করোনা ঢুইকা ওনারে ধরছে।’
যুবলীগের এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, ‘আমি কোনো নেতার উপর নির্ভর করে রাজনীতি করি না। জনগণের ভালোবাসার ওপর ভরসা করে রাজনীতি করি। আমার দলে যেসব মাতাল ছিল, তাদের বের করে দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে তিনি ফুল নিচ্ছেন।’
কাজী জাফরউল্লাহকে উদ্দেশ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘এ সমাবেশ বন্ধ করতে পারেন নাই। এখন শুনি যাওয়ার সময় বাধা দেবেন। তাহলে কাজী বাড়ির একটা ইটও আস্ত থাকবে না। আপনার অনেক বয়স হয়েছে, প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিয়া অমার সঙ্গে এক মঞ্চে আসেন। আপনার পাশে যারা আছে, তারা সব নষ্ট। তাদের দিয়া কাজ হবে না। মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে জনগণের কাতারে আসেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে নৌকা নিয়া আসবেন, বলছেন। এটা আর নতুন কী। গত দুইবারও তো নৌকা নিয়া আইছিলেন। এবার বলার প্রয়োজন হচ্ছে কেন! আগামী নির্বাচনে নৌকা পাইতে আপনার কি তাহলে কোনো সমস্যা হচ্ছে?’
সভায় সভাপতিত্ব করেন কাউলি বেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রওশন কবির। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আরাফাত হোসেন, কাজী ওয়ালিউল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাজেদুল হক প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাহকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন নিক্সন চৌধুরী। এর পর থেকে ওই তিন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাকে আবারও পরাজিত করেন নিক্সন চৌধুরী।