
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইউসুফপুর ধানিস মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম সুরুজ মিয়া (৫০)। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির হোসেনের কর্মী। ইউসুফপুর গ্রামের দিল্লুর আলীর ছেলে সুরুজ মিয়া। আহত ব্যক্তিরা হলেন নৌকার সমর্থক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সরকার এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাজহারুল হকের কর্মী হাবিবুর রহমান ও আবু কাউছার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত নয়টার দিকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ইউসুফপুর ধানিস মার্কেটের সামনে ঘোড়া প্রতীকের লোকজন নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান সুরুজ মিয়া। দ্রুত উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুরুজ মিয়ার মৃত্যু হয়। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
নৌকার প্রার্থী কবির হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজহারুল হক তাঁর লোকজন নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে মাজহারুল হক বলেন, এ হামলার সঙ্গে তিনি কিংবা তাঁর কোনো সমর্থক জড়িত নন। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন এবং মারামারি করেছেন।
নিহত সুরুজ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় বলে জানান দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের মারামারির সময় মাটিতে পড়ে গিয়ে সুরুজ মিয়া মারা গেছেন। তবে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
৭ ফেব্রুয়ারি এই ইউপিতে নির্বাচন হবে।