
পঁয়তাল্লিশোর্ধ্ব লায়েক মিয়া একজন জেলে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খোজারপাড়া গ্রামে তাঁর বসতি। মা, স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তাঁর সাত সদস্যের পরিবার। হঠাৎ বন্যায় বাড়িতে কোমরপানি হওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নেন পাশের দিঘলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সামান্য চাল ছাড়া কিছুই পাননি বলেও অভিযোগ তাঁর।
লায়েক মিয়া বলেন, তাঁর নিজস্ব কোনো নৌকা কিংবা জাল নেই। অন্যের নৌকায় দৈনিক মজুরির বিনিময়ে মাছ শিকার করতে যান। এ দিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে সংসার। একমাত্র ছেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় তাঁর ছেলে অটেরিকশা চালাতে পারছেন না।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, খোজারপাড়া গ্রামের যে রাস্তা ধরে মানুষজন হেঁটেই চলাচল করেন, সেখানে এখন কোমর থেকে গলাসমান পানি। প্রতিটি ঘরই প্লাবিত হয়েছে। মানুষজন বন্যার পানির কারণে চরম ভোগান্তিতে আছে। তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ডুবে আছে লায়েক মিয়ার বাঁশ-টিনের ঘর। এখনো সেখানে হাঁটুপানি। পুরো ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় ভেতরে থাকা আসবাব আর কাপড়চোপড় পচে যাচ্ছে।
লায়েক মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানি হাওর, বিল ও পুকুর উপচে ঘরবাড়িতে ঢুকছে। পানি খুবই বেশি, অনেকে মাছ ধরতেও যাইতে পারতাছে না। তাই ঋণদারি কইরা চলি। সামান্য কিছু খেয়ে জিব রক্ষা করে চলি। জিবে একটা কিছু দিয়া কোনোরকমে পেটের ক্ষিধা মেটাচ্ছি।’