
সদ্য কাটা আমনের ফাঁকা মাঠে হাজারো দর্শক। কেউবা বসে, কেউবা দাঁড়িয়ে। তবে যে যেভাবেই থাক, দৃষ্টি সবার একদিকেই। মাঠের মাঝখান দিয়ে প্রাণপণ ছুটছে নানা রং ও আকারের ঘোড়া। বিচিত্র তাদের নাম। পিঠে সওয়ারি, থামলেই চাবুকের ঘা। খুলনার রূপসার ১ নম্বর আইচগাতি ইউনিয়নের পুঁটিমারি বিলের মাঠের দৃশ্য এটি।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় জেকেএস ক্রীড়া সংস্থা পাঁচ দিনব্যাপী ৪৮তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ঘোড়দৌড় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গতকাল শুক্রবার আয়োজন করা হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা ঘোড়দৌড়ের।
সকাল থেকে যে কুয়াশার চাদর ছিল, দুপুর হতেই তা কেটে যায়। হিমেল বাতাসের মধ্যেও ঝলমল করে শীতের মিষ্টি রোদ কড়া হতে থাকে। রোদের মতো আস্তে আস্তে ঘোড়ায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মাঠ। মাইকে চলতে থাকে নানা ঘোষণা। ঘোড়দৌড় দেখার জন্য ভিড় বাড়তে থাকে দর্শকের।
প্রতিবছরের এ সময়ে একই জায়গায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে এমন আয়োজন উপভোগ করে এলাকাবাসী। বেলা তিনটার পর শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। শুরুর দিকে কিছুটা ধীরে দৌড় চললেও কিছুক্ষণের মধ্যে তা ভীষণ গতি পায়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘোড়াগুলো নিয়ে এসেছিলেন ঘোড়ার মালিকেরা। তাঁরা শুধু প্রতিযোগিতার জন্যই ঘোড়া পোষেন। ঘোড়া নিয়ে ছুটে যান যেখানেই খেলা হয়, সেখানে। ঘোড়ার পিঠে চাবুক হাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ঘোড়সওয়ারেরা।
প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপভোগ করে এ প্রতিযোগিতা। গতকাল দিনভর এমন আয়োজন ঘিরে চলে আনন্দ উৎসব। ঘোড়দৌড়ের পাশাপাশি চলতে থাকা গ্রামীণ মেলা ঘিরেও উৎসাহ ছিল। এবারের প্রতিযোগিতায় ৩০টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগী ঘোড়াগুলো মোট সাতবার দৌড়ে অংশ নেয়।
চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় নড়াইলের লোহাগড়ার নাজমুলের ঘোড়া ‘কালাই’ প্রথম, লেবুগাতীর অপু বিশ্বাসের ঘোড়া ‘অগ্নি’ দ্বিতীয়, যশোরের অভয়নগরের সাজাহান সরদারের ঘোড়া ‘পঙ্খিরাজ’ তৃতীয়, অভয়নগরের জাকির গাজীর ঘোড়া ‘ব্যাচেলর বাহাদুর’ চতুর্থ ও হালিম মোল্লার ঘোড়া ‘রকেট’ পঞ্চম হয়।