
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ পরিদর্শন করেছেন ঘটনার তদন্তে গঠিত তিনটি কমিটির সদস্যরা।
গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ঝালকাঠি সদরের পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন সদর থানায় মামলাটি করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আজ বেলা ১১টার দিকে ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে রাখা লঞ্চটি পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শাজাহান খান। এ সময় ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জোহর আলীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় গঠন করা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটির সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
লঞ্চঘাট এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাজাহান খান বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদগুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো আমলে নিয়ে পর্যালোচনা করে এবং লঞ্চটি পরিদর্শন করে কাজ করছে তদন্ত কমিটি।’ তাঁর ধারণা, আগুন ক্যানটিন থেকে নয়, ইঞ্জিনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে লেগেছিল।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম সচিব তোফায়েল হাসান বলেন, ‘যা কিছু দেখছি, সবই প্রাথমিক তদন্তের পর্যায়ে আছে। চূড়ান্তভাবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপপরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, লঞ্চের ছয়টি সিলিন্ডারের মধ্যে একটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
আগুন লাগা লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি, লঞ্চটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিল। তবে লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বলছেন, অভিযান-১০ লঞ্চে যাত্রী ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার।
এদিকে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করেছে। তারা আজ সারা দিন সুগন্ধা নদীর সম্ভাব্য সব স্থানে লাশের সন্ধানে অভিযান চালাবে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, সুগন্ধা নদীতে স্রোতের মাত্রা বেশি। এ কারণে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এরপরও চৌকস ডুবুরি দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।