ট্রাকের ধাক্কায় স্বামীসহ প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা সখিনার

ট্রাকের ধাক্কায় নিহত সখিনা ও স্বামী ইকবালের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামা হাবিবুর রহমান
ছবি: জুয়েল শীল

পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সখিনা ফাতেমি (৩২) ও মো. ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী (৪০) দম্পতির। মাস কয়েক বাদেই তাঁদের কোলজুড়ে আসার কথা ছিল প্রথম সন্তান। চিকিৎসকের পরামর্শে মেনেই চলছিলেন সখিনা। আজকেও তিনি গিয়েছিলেন চিকিৎসকের কাছে। সেখানে থেকে ফেরার পথে ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারান এ দম্পতি। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সখিনা ফাতেমি নগরের মোস্তফা-হাকিম কে জি অ্যান্ড হাইস্কুলের শিক্ষিকা। তাঁর স্বামী ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের বাসা নগরের ফিরোজ শাহ কলোনিতে। গ্রামের বাড়ি মিরসরাই।

নিহত দম্পতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, সখিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বুধবার তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। অফিস শেষে স্বামী ইকবাল তাঁকে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে নিয়ে ফিরছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালখান বাজার এলাকায় উড়ালসড়ক থেকে নামছিলেন ওই দম্পতি। এ সময় পাশ থেকে কংক্রিটের ঢালাইবাহী একটি ট্রাক তাঁদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। দুজনই রাস্তায় পড়ে গেলে ট্রাকটি তাঁদের শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লালখান বাজারে দেখা যায়, দুজনের মরদেহ সড়কের ফুটপাতের ওপর রাখা। পরে পুলিশ এসে মরদেহ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে নিহত সখিনার মামা হাবিবুর রহমান বিলাপ করছিলেন। সখিনার মুঠোফোন থেকে পথচারীরা ফোন করেছিলেন তাঁকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তিনি।

সখিনা ও ইকবাল দম্পতির মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনা অবিশ্বাস্য। সবকিছু ঠিকই ছিল। প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় ছিলাম সবাই। একটা আনন্দ বয়ে যাচ্ছিল ঘরজুড়ে। কিন্তু কী হয়ে গেল? কীভাবে হয়ে গেল এ দুর্ঘটনা? এ ঘটনার বিচার চাই। মামলা করা হবে।’

দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করেছে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। তবে চালককে আটক করা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চৌধুরী রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, চালককে আটকের জন্য অভিযান চলছে।