দুর্নীতিবাজের চাষাবাদ কোথায় হয়?

প্রথম আলোর প্রিন্ট সংস্করণের আজ বৃহস্পতিবারের প্রধান সংবাদ ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠদের দুর্নীতির জাল’। সংবাদটি সাড়া ফেলেছে। অনলাইন সংস্করণে পাঠকেরা নানান প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। পাঠকের প্রতিক্রিয়ার মধ্য থেকে নির্বাচিত কিছু এখানে তুলে ধরা হলো।

খবরে বলা হয়, চাঁদপুরে সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের আগেই সেখানকার সাড়ে ৬২ একর জমি মৌজা দরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি দাম দেখিয়ে দলিল করে নিয়েছে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের কাছ থেকে ৩৫৯ কোটি টাকা বাড়তি নেওয়ার এ কারসাজিতে জড়িত ব্যক্তিরা শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। এর মধ্যে তাঁর নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন।

আরমান হক লিখেছেন, শাবাশ বাংলার মন্ত্রীরা, যাঁদের হাতে দেশের উন্নতি হবে, তাঁরা, তাঁদের ঘনিষ্ঠ ও তাঁর নিকটাত্মীয়রা যদি এভাবে দুর্নীতি করে! তবে প্রধানমন্ত্রী একা কীভাবে দেশের উন্নয়ন করবেন? প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, এই বিষয়টাকে নিজে দেখা। আসলে পুরো বিষয়টা কী ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লিখেছেন, অবিলম্বে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন আইন রদ করে এর দুর্নীতি তদন্তে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জনগণের টাকা নয়ছয় আর কত!

হরিপদ লিখেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এমন এক জায়গায়, যেটা চাঁদপুর জেলার ৯৫% মানুষের যাতায়াতের বাইরে। জেলার বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের চাঁদপুর ঢোকার পরও অন্তত তিনবার গাড়ি পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হবে। এমন একটি দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে শুধু মন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বার্থেই!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লিখেছেন, এভাবে আর কত দিন? কোথাও কেউ নেই...।

শেখ মসিউর রহমান লিখেছেন, এই হলো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা! আর এই হলো আমাদের শিক্ষামন্ত্রী! ধন্যবাদ, এত সুন্দর রিপোর্ট করার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লিখেছেন, চুরিতে কেউ পিছিয়ে নেই...।

মহিউদ্দিন মাসুদ লিখেছেন, লুটপাটের কাহিনি ছাড়া আর কোনো কাহিনি ক্ষমতাসীনদের আছে বলে কেউ মনে করে না। কবে যে গোটা বাংলাদেশটাই এদের হাতে লোপাট হয়ে যায়, মানুষ এখন সেই দিনটারই অপেক্ষা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লিখেছেন, খুবই ভালো! চাঁদপুরের ঘটনায় উনার বক্তব্য পাওয়া যায় না! আর সিলেটে উপাচার্যকে স্বপদে বহাল রেখে সমস্যা সমাধান করবেন!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লিখেছেন, চুরির রাজ্য বিচার করবে কোন সে মহাজন!
মো. আবুল বাশার লিখেছেন, দুর্নীতির দুর্গে ভাঙন ধরাতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম ও কার্যকরী। ধন্যবাদ, সাহসিকতার জন্য।

মো. লতিফুল কবির লিখেছেন, দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী, চাঁদাবাজ, ঘুষখোর ও পাচারকারীদের অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক, তা দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা হোক।

মোহাম্মদ আমিন লিখেছেন, অত দুর্নীতিবাজ কোথা থেকে এল? এদের চাষাবাদ কোথায় হয়? দলে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে?

[পাঠকের মন্তব্যে বানান ও ব্যাকরণগত পরিমার্জন আনা হয়েছে]