
নির্ধারিত সময়ের এক দিন পর সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার ধানকুনিয়া হাওরের নূরপুর ফসল রক্ষা বাঁধে মাটি ফেলে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা ছিল। প্রকল্প কাজ শেষ করার কথা রয়েছে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, হাওর থেকে দেরিতে পানি নামার কারণে বাঁধের জরিপ কাজ, প্রাক্কলন তৈরি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করাসহ যাবতীয় কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। তবে এ অবস্থায় ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন এখানকার কৃষকেরা।
সুনামগঞ্জ পাউবো, উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, ধানকুনিয়া, জয়ধনা, সোনামড়ল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, কাইলানী—এই আট হাওর সুনামগঞ্জ পাউবোর অধীনে রয়েছে। এবার উপজেলায় সম্ভাব্য ১৭০টি পিআইসি গঠন করা হবে। উপজেলার ৮টি হাওরের বাঁধের দৈর্ঘ্য ২৫৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে এবার ২০৩ কিলোমিটার বাঁধের জরিপ কাজ করা হবে। গত ২৪ নভেম্বর থেকে জরিপ কাজ শুরু করে ২০৩ কিলোমিটারের মধ্যে আজ পর্যন্ত ১৯৫ কিলোমিটার বাঁধের জরিপ কাজ করা হয়েছে।
ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের জন্য গণশুনানি, জরিপ, পিআইসি গঠন এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ অবস্থায় যথাসময়ে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের কাজও শেষ হবে দেরিতে। ফলে ফসলহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।জহিরুল হক, আহ্বায়ক, হাওর বাঁচাও আন্দোলন ধরমপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা কমিটি
জরিপ ও প্রাক্কলন তৈরির কাজ শেষ করে গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধরমপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা কমিটির আহ্বায়ক জহিরুল হক বলেন, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের জন্য গণশুনানি, জরিপ, পিআইসি গঠন এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ অবস্থায় যথাসময়ে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের কাজও শেষ হবে দেরিতে। ফলে ফসলহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন বলেন, হাওর থেকে দেরিতে পানি নামার কারণে জরিপসহ অন্যান্য কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এবার এখানকার ৮টি হাওরে সম্ভাব্য ১৭০টি পিআইসি গঠন করা হবে। এর মধ্যে একটি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ধানকুনিয়া হাওরের নূরপুর ফসল রক্ষা বাঁধের মাটি ফেলার মধ্য দিয়ে এ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু তালেব, ধরমপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ বিলকিস, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক গোলাম আজহারুল ইসলাম পিকে, সুনামগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব মো. ইমরান হোসেন, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ, পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌসুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আবদুল বারেক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।