
বরগুনার পাথরঘাটায় মাছ ধরার নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পাথরঘাটার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মৎস্য কর্মকর্তা ও তাঁদের সঙ্গে থাকা লোকজন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও হুমকি-ধমকির অভিযোগে ১৬৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
পাথরঘাটার ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদের নেতৃত্বে গতকাল শনিবার বলেশ্বর নদে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। বেলা দেড়টার দিকে পদ্মা বাজারসংলগ্ন এলাকায় তাঁরা স্থানীয় লোকজনের হামলার শিকার হন। এ সময় অভিযান দলের পাঁচ সদস্য আহত হন। তাঁরা হলেন পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, শ্রমিক কামাল সিকদার, আলমগীর হাওলাদার, ফারুক আকন ও রেজওয়ান ইসলাম।
আহতরা সবাই পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এই হাসপাতালের কর্মকর্তা সাইফুল হাসান বলেন, আহত ব্যক্তিদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। একজনের মাথায় সাবল দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ইউএনওর নেতৃত্বে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশকে নিয়ে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের নামে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বলেশ্বর নদের পদ্মা স্লুইসঘাট বাজারের পশ্চিম পাশের খাল থেকে মাছ ধরার নিষিদ্ধ বেহুন্দি, ঘোপজাল ও চরগড়া জাল জব্দ করা হয়। এসব জাল পুড়িয়ে ফেলার প্রস্তুতি নিতে গেলে স্থানীয় দেড় শতাধিক নারী–পুরুষ অভিযানে থাকা লোকজনকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ধাওয়া দেয়।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় কোস্টগার্ড ও পুলিশের সদস্যরা হামলাকারী লোকজনকে সরে যেতে অনুরোধ করলে তাঁরা আরও বেশি করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দারা দল বেঁধে আমাদের ওপর হামলা চালান। এতে আমাদের সঙ্গে থাকা পাঁচ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে আমাদের সঙ্গে থাকা কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আমাকে ও মৎস্য কর্মকর্তাকে নিরাপদে রাখতে সম্মত হয়েছেন। তা না হলে আমরা দুজনই মারাত্মকভাবে জখমসহ যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি আরও ১৩০ জন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পাথরঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা, মারধর ও হুমকি-ধমকির ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।