পদ্মা সেতু দেখতে কয়েক শ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মাওয়া প্রান্তে এসেছেন তাঁরা। ছবি শনিবার সকালে মাওয়া পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় তোলা
পদ্মা সেতু দেখতে কয়েক শ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মাওয়া প্রান্তে এসেছেন তাঁরা। ছবি শনিবার সকালে মাওয়া পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় তোলা

পদ্মা সেতু দেখতে কয়েক শ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছেন তাঁরা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠা স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেখতে কয়েক শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া উপজেলায় এসেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মামুন শিকদার। নিজে কখনো দক্ষিণাঞ্চলের আসননি। ভবিষ্যতে আসার সম্ভাবনা কম। তারপরও পদ্মা সেতু তাঁর কাছে বিশেষ কিছু।

মামুন শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে। এত দিন সেতুর গল্প সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। উদ্বোধনের দিন সেতুকে কাছ থেকে দেখব, সেতুর সঙ্গে ছবি তুলব। সেতুতে করে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ওপারে যেতে কয়েক শ কিলোমিটার দূর থেকে মাওয়া এলাকায় এসেছি।’

মো. আনোয়ার হোসেন এসেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকা থেকে। তিনি বলেন, ‘দুদিন ধরে ঘুমাই না। কত কষ্ট করে মাওয়া এলাকায় এসেছি, বলে বোঝাতে পারব না। মনে-প্রাণে আনন্দের জোয়ার বইছে। সেতুতে উঠব। পদ্মা জয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকব।’

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীরবাজার এলাকা থেকে এসেছেন আকুল শেখ। তিনি বলেন, ‘আমাদের টাকায় আমাদের সেতু। প্রমত্ত পদ্মায় সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে আমরা সাহসী জাতি। তাই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন দেখতে এসেছি।’

চট্টগ্রামের হালিশহরের বাসিন্দা হাসান তারেক বলেন, ‘সারা বিশ্ব এখন পদ্মা সেতুর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিনতে শুরু করেছে। একসময় আমরা বৃদ্ধ হব, আমাদের নাতিপুতিরা বড় হবে। আমি তাদের পদ্মা সেতুর গল্প শোনাব। আজকের দিনের ছবি দেখাব। এত বড় গর্বের সেতুর উদ্বোধনের দিন আমিও সেতু এলাকায় ছিলাম। সে গল্প তাদের বলতেই আজ পদ্মা সেতু এলাকায় এসেছি।’