
সাকিব, সাব্বির ও সানোয়ারা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রুটিন অনুযায়ী তাদের ক্লাস ছিল না। তবু দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খোলার পর আজ তারা বিদ্যালয়ে গেছে। হইহুল্লোড় করে ছবি তুলছে সবাই।
সকাল ১০টায় পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান ফটকে অষ্টম শ্রেণির ১০ শিক্ষার্থীকে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়। সাব্বির হোসেনের ভাষায়, ‘স্কুল খোলার এ আনন্দ বলে বোঝানোর নয়। তাই ছুটে এসেছি। বন্ধুদের পেয়েছি, খুব ভালো লাগছে।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমনই আনন্দে ছিলেন শিক্ষকেরা। দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠান খোলায় তাঁরা ছিলেন বেশ উজ্জীবিত। নিজেরাই বিদ্যালয়ের ফটকে দাঁড়িয়ে বরণ করেছেন শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের হাতে স্যানিটাইজার দেওয়ার পাশাপাশি তুলে দিয়েছেন গোলাপ ফুল।
করোনার কারণে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আনন্দঘন পরিবেশে প্রথম দিন শুরু হয়েছে। পাবনা শহরের স্বনামধন্য পাঁচটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম দিনেই ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়।
সকাল সোয়া নয়টায় জেলা শহরের সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল ফটকে গিয়ে দেখা যায় মাস্ক, স্যানিটাইজার, তাপমাত্র মাপার যন্ত্র ও ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন শিক্ষকেরা। শিক্ষার্থীরা প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাত স্যানিটাইজার করছেন একজন শিক্ষক, তারপর তাপমাত্রা মেপে তুলে দেওয়া হচ্ছে গোলাপ ফুল।
শিক্ষার্থীদের বরণের এমন দৃশ্য দেখা যায় আদর্শ গার্লস হাইস্কুল, সিদ্দিক মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আরএম একাডেমি, পাবনা সরকারি মহিলা কলেজ ও পাবনা জিলা স্কুল ফটকে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই।
প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম দিন ২০২১ ও ২০২২ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। অপর দিকে কলেজ পর্যায়ে ২০২১ ও ২০২২ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আজ প্রতিটি ক্লাসে গড়ে ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। কোনো শিক্ষার্থীর শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্র পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত ক্লাসের বাইরে যারা এসেছে, তাদের বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসিফ হোসেনের ভাষায়, ‘স্কুল খোলার আনন্দে রাতে ঘুমাতে পারিনি। সকালে স্কুলে সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
সিদ্দিক মেমোরিয়াল স্কুলের ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী আবদুল কালাম জানায়, এখন ক্লাস করা খুব জরুরি ছিল। তাই স্কুল খোলায় খুব ভালো লাগছে।
জিলা স্কুলের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের কাছে পেয়ে নিজেকে বেশ উজ্জীবিত লাগছে।’
এ প্রসঙ্গে জিলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রথম দিনের ক্লাস শুরু করেছি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরাও বেশ সচেতন। মাস্ক ছাড়া কেউ স্কুলে আসেনি। সামনের দিনগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হবে।’