
হবিগঞ্জে আট মাস আগে চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ জনতার হাতে ধরা পড়েন এক পুলিশ সদস্য। খবর পেয়ে সেখানে আসেন স্থানীয় ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। এরপর ওই পুলিশ সদস্য প্রকৃত মালিককে মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে দিয়ে ‘সমঝোতা’ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বুধবার রাতে হবিগঞ্জ শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁর উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হবিগঞ্জ আদালতের পুলিশ সদস্য মো. ইমন একটি ১৫০ সিসির লাল রঙের পালসার মোটরসাইকেল চালিয়ে শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় আসেন। তাঁর সঙ্গে দুজন বন্ধুও ছিলেন। সাইকেলটি তিনি রেস্তোরাঁর সামনে রেখে প্রবেশকালে হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা ইউসুফ আলী নামের এক তরুণ মোটরসাইকেলটি নিজের বলে দাবি করেন। তিনি পুলিশ সদস্য ইমনের কাছে জানতে চান, এ মোটরসাইকেল তিনি কোথায় পেলেন? এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
এ সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। ইউসুফের বেশ কয়েক বন্ধুও আসেন ঘটনাস্থলে। এ সময় ইউসুফ আলী বলেন, আট মাস আগে তাঁর মোটরসাইকেলটি (হবিগঞ্জ-ল ১১-১২২৯) চুরি হয়। এ বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই কাগজপত্রও দেখান।
সেখানে পুলিশ সদস্য ইমন দাবি করেন, এ মোটরসাইকেল তিনি মৌলভীবাজার থানার এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ সদস্য ইমন হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করে সহযোগিতা চান। পরে ফাঁড়ির উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় ইউসুফ আলী মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও জিডির প্রমাণপত্র দেখান। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্য ইমন প্রকৃত মালিক ইউসুফ আলীকে মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে দেন।
ইউসুফ আলী বলেন, তাঁকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ করেন। তিনি মোটরসাইকেল বুঝে পাওয়ায় আর ঝামেলায় জড়াননি। ইমনকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে মোটরসাইকেল চোরের সিন্ডিকেট বের করা সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।
যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদস্য মো. ইমন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হবিগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ইমন দাবি করেছেন, তাঁর এক বন্ধু তাঁকে মোটরসাইকেলটি দিয়েছিলেন। পরে নিজেরা বসে মীমাংসা করে নিয়েছেন। মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকের কোনো অভিযোগ না থাকায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুক আলী বলেন, তিনি বিষয়টি বৃহস্পতিবার শুনেছেন। তিনি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবেন, কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।