
করোনায় আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ থেকে বগুড়ায় আসা তরুণের মা ও নানির শরীরেও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় ওই দুই নারীর করোনা 'পজিটিভ' শনাক্ত হয়। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯।
নারায়ণগঞ্জের একটি প্লাস্টিক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন করোনায় আক্রান্ত ওই তরুণ। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পীরব ইউনিয়নে। বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জ্বর নিয়ে ৭ মে তিনি বাড়ি ফেরেন। জ্বর ও গলা ব্যথাসহ করোনার উপসর্গ থাকায় ৯ মে তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে নমুনা দিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেশেন। নমুনা পরীক্ষায় ১০ মে তাঁর নমুনা পরীক্ষার ফল করোনা 'পজিটিভ' আসে।
ওই দিনই তাঁকে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়। পরদিন তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মা ও নানির শরীরেও করোনারভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে বৃহস্পতিবার ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার ১৭৭টি নমুনার মধ্যে দুজনের করোনা 'পজিটিভ' শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে জয়পুরহাট জেলা থেকে আসা ১১টি নমুনা পরীক্ষায় সবগুলো 'নেগেটিভ' ফল এসেছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, 'অসচেতনতার জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে তরুণের বয়ে আনা করোনায় আক্রান্ত হলেন তাঁর মা ও নানি। সতর্ক হলে এবং বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকলে এভাবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হতো না। এভাবেই আক্রান্তদের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। আগামী এক সপ্তাহে আরও বেশি করোনা 'পজিটিভ' শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।'