বাইক্কা বিলে শিকলে বাঁধা বিরল উল্টোলেজি বানর

শিকলে বেঁধে রাখা উল্টোলেজি বানর। মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলে
ছবি:  শিমুল তরফদার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাইক্কা বিলে বিরল একটি উল্টোলেজি বানর লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বন বিভাগকে না জানিয়ে খোলা ছাদের এক কোণে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখায় বানরটি অসুস্থ হয়ে থরথর করে কাঁপছে।

দ্রুত প্রাণীটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাইক্কা বিলে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা। বাইক্কা বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিলের টিকিট কাউন্টারের ছাদের ওপরের এক কোণায় প্রাণীটিকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ছাদের তিন পাশ খোলা থাকায় প্রাণীটিকে খাবার ও একটি কাপড় দেওয়া হলেও শৈত্যপ্রবাহের ঠান্ডা ও বৃষ্টির কারণে বানরটি থরথর করে কাঁপছে।

বাইক্কা বিলে ঘুরতে আসা পর্যটক বিজয় পিকে বলেন, বানরটি যেভাবে ঠান্ডায় কাঁপছে, দেখে মনে হচ্ছে অসুস্থ। বন বিভাগ দ্রুত প্রাণীটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা না দিলে সেটি মারা যেতে পারে। বৃষ্টি ও শীতের কারণে বানরটির অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। আজ রাতে এখানে থাকলে সেটি মারা যেতে পারে।

বাইক্কা বিলের নিরাপত্তারক্ষী খোয়াব মিয়া বলেন, গত সোমবার থেকে বানরটিকে বেঁধে রাখা হয়েছে। এখানে পর্যটকেরা ঘুরতে আসেন, প্রাণীটি বেশ কয়েক দিন ধরে লোকজনকে খুব বিরক্ত করছিল। বন বিভাগকে খবর দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন বিভাগের নম্বর তাঁদের কাছে নেই।

প্রাণীটির ছবি দেখে এর নাম উল্টোলেজি বানর বলে নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব। তিনি বলেন, এটি উল্টোলেজি বানর। স্থানীয়ভাবে এটি কেশরওয়ালা সিংহ বানর, কুলু বান্দর, ছোট লেজি বানর, উলু বান্দর প্রভৃতি নামে পরিচিত। উল্টোলেজি বানর বাংলাদেশে দুর্লভ ও বিশ্বে সংকটাপন্ন। এটি সারকোপিথেসিডি পরিবারের প্রাণী। এর ইংরেজি নাম নর্দান পিগ টেইলড ম্যাকাক (Northern pig-tailed macaque), বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাকাকা লিওনিনা (Macaca leonine)। বানরটির দৈর্ঘ্য ৪০-৬০ সেন্টিমিটার, লেজ ১৮-২৫ সেন্টিমিটার; ওজন ৪.৫-১২ কেজি। শূকরের মতো ছোট লেজটি ওপরের দিকে ওল্টানো। দেহের ওপরের লোম জলপাই-ধূসর, নিচটা ধূসর-সাদা ও মুখমণ্ডল গোলাপি। মাথার মাঝখানটা চ্যাপ্টা ও কালচে। দলনেতার মাথায় কখনো কখনো সিংহের মতো কেশর দেখা যায়। এরা দিবাচর, বৃক্ষবাসী ও ভূমিচারী প্রাণী। ফল, কচি পাতা, কুঁড়ি, শস্যদানা, কীটপতঙ্গ, কাঁকড়া, পাখির বাচ্চা ইত্যাদি খায়। এরা মূলত চিরসবুজ বনের গভীর এলাকায় থাকতে পছন্দ করে। মার্চ থেকে জুনে এদের বেশি প্রজনন হয়ে থাকে। ১৬২-১৮৬ দিন গর্ভধারণের পর একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। এরা সাধারণত ১০-১২ বছর বেঁচে থাকে।

শ্রীমঙ্গল বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বানরটিকে আটকে রাখার খবর পেয়েছি। প্রাণীটিকে উদ্ধার করার জন্য সেখানে আমাদের বন বিভাগের লোকজন পাঠানো হয়েছে। এটি উদ্ধারের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’