বানেশ্বরে কেন্দ্রে ঢুকে নৌকায় গণহারে সিল, ভোট স্থগিত

ভোট স্থগিতের পর রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের চিত্র। বুধবার দুপুরে
ছবি : প্রথম আলো

রাজশাহীর পুঠিয়ায় জোর করে কেন্দ্রে ঢুকে গণহারে ব্যালট পেপারে সিল মারায় উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই কেন্দ্রের সব ভোট বাতিল করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সিদ্ধান্ত জানান পুঠিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন বলেন, বানেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে একদল লোক জোর করে নৌকায় সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হাজির হলেও তার আগেই তাঁরা পালিয়ে যান। পরে সেই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত ও ভোট বাতিল করা হয়। যেহেতু ওই ব্যক্তিরা নৌকায় সিল মারার জন্য এসেছিলেন, তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে তাঁরা নৌকার প্রার্থীর সমর্থক।

দুপুরে ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট গ্রহণে নিয়োজিত ব্যক্তিরা চলে গেছেন। কেন্দ্রের বাইরে পোস্টার থাকলেও ভেতরে সুনসান নীরবতা। তাই বোঝার উপায় নেই এটা ভোটকেন্দ্র। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, সকালে মানুষ উৎসবের মতো করে ভোট দিতে আসছিলেন। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে নৌকার একদল সমর্থক এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারা শুরু করেন।

১৮ বছর পর ভোট হচ্ছে রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়নে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে উৎসবের মেজাজ। বুধবার সকালে

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। মানুষ খুব শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় মোটরসাইকেল নিয়ে একদল লোক কেন্দ্রে জোর করে প্রবেশ করেন। তাঁরা এজেন্টদের মারধর করে ব্যালট পেপারে সিল মারা শুরু করেন। প্রায় ১০০ ব্যালটে তাঁরা তাৎক্ষণিক সিল মেরে বেরিয়ে যান। তাৎক্ষণিক তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানান। পরে তাঁরা কেন্দ্রে এসে সবকিছু বিবেচনা করে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, তাঁরা দল বেঁধে এসে খুব অল্প সময় কেন্দ্রে অবস্থান করে সিল মেরে চলে যান। তাই কাউকে আটক করা যায়নি।

এর আগে বানেশ্বরের হাতিনাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে জোর করায় শিমুল (২২) নামের এক যুবককে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছের ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঁচ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন।

একটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হলেও অন্য কেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটরদের দীর্ঘ লাইন। বুধবার সকালে বানেশ্বর ইউনিয়নের সৈয়দ করম আলী শাহ (রঃ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে

গত শুক্রবার রাতে বানেশ্বরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের দেওয়া বক্তৃতার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে গেলে নৌকায় সিল মেরে দেখাতে হবে। না হলে ভোটের মাঠেই ঢুকতে দেওয়া হবে না। যদি তা না পারা যায়, তবে তাঁদের তালিকা করার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদ বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর এমন বক্তব্যে অন্য প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে রোববার প্রথম আলো অনলাইনে ‘নৌকায় সিল মেরে দেখাতে হবে, নইলে ঢুকতে দেওয়া হবে না’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ কেন্দ্রে জোর করে নৌকায় সিল মারার এ ঘটনা ঘটল। পঞ্চম ধাপের তফসিল অনুসারে আজ পুঠিয়ায় বেলপুকুর ও বানেশ্বর ইউপিতে নির্বাচন হচ্ছে। বানেশ্বরে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তিনজন। নৌকার প্রার্থী ছাড়াও আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নেতা আবদুল রাজ্জাক এবং হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মামুনুর রশিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।