বালু উত্তোলনে ঝুঁকিতে সেতু

বাঙ্গালী নদীর বেড়েরবাড়ি সেতুর নিচ থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রথম আলো
বাঙ্গালী নদীর বেড়েরবাড়ি সেতুর নিচ থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রথম আলো

বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলীর বিরুদ্ধে বাঙ্গালী নদীর বেড়েরবাড়ি সেতুর পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক বছর ধরে বালু উত্তোলনের ফলে সেতু ও সড়ক ধসের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে বেড়েরবাড়ি গ্রামের বাঙ্গালী নদীর ওপর প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়। নদীর মধ্যে সেতুটির ১০টি পিলার রয়েছে। এখন শুষ্ক মৌসুম। তাই নদীর পানি শুকিয়ে জেগে উঠেছে বালুচর। এ অবস্থায় সেতুর দক্ষিণ পাশে নদীর বুক থেকে খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলী। প্রতিদিন তিনি এই বালু বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগের পর কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের খননযন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবু বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন। গোপন যোগাযোগ থাকায় অভিযানের খবর আগেই পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান নবাব আলী। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি আদালত। তাই নবাব আলী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীতে গভীরতার সৃষ্টি হয়ে সেতুর পিলার দেবে যাওয়াসহ রাস্তা, বসতভিটা ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।

ধুনট উপজেলা সদর থেকে সোনাহাটা হয়ে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাঙ্গালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে এই সেতু। সেতুর পূর্ব পাশে নিমগাছি ও পশ্চিম পাশে বেড়েরবাড়ি গ্রাম।

গত রোববার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর দক্ষিণ পাশে ৩০০ মিটার দূরে খননযন্ত্র বসিয়ে নদীর গভীর থেকে বালু উত্তোলন করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে সেতুর নিচে। সেখান থেকে শ্রমিকদের সাহায্যে ট্রাক দিয়ে সেই বালু পরিবহন করে জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

বালু তোলার স্থানে উপস্থিতি ১০-১২ জন এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। তাই গর্ত দেখা গেলেও ভাঙনের কোনো আলামত নেই, কিন্তু বর্ষাকালে যখন পানিতে নদী ভরে উঠবে, তখন বালু উত্তোলনের বিরূপ প্রভাব দেখা দেবে। বেড়েরবাড়ি ও নিমগাছি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বালু উত্তোলনকারী এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতা নবাব আলী দাবি করেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনে সেতুর ক্ষতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকার কিছু মানুষ সুবিধা না পেয়ে শত্রুতা করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।